তিন লক্ষ কর্মী ছাঁটাই  করার মুখে ভারতীয় রেল রেলমন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তে  শোরগোল দেশ জুড়ে রেলের দাবি বিপুল খরচের বোঝা কমাতেই এই সিধান্ত ৯ আগস্টের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে ছাঁটাই-কর্মীদের নামের তালিকা   

এতদিন সুরক্ষিত কর্মজীবনের অপর নাম ছিল ভারতীয় রেল। সেই ধারণা ভেঙে দিয়ে এক লপ্তে প্রায় তিন লক্ষ কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে ভারতীয় রেল। রেলমন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে দেশ জুড়ে। নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত রেখে, আপাতত কর্মী সঙ্কোচনের পথেই হাঁটতে চলেছে ভারতীয় রেল। রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের দাবি, জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই তাঁদেরকে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যেই এই কর্মী ছাঁটাই-এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে রেল মন্ত্রক। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নির্বাচনের আগে বিজেপির ইস্তাহারে বলা হয়েছিল রেল দফতরে আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লক্ষ নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা তো দূরের কথা, স্বাধীনতার পর এই প্রথম নজিরবিহীনভাবে কোনও সরকারী দফতরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। 

রেলের বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের দাবী দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিন চালক, সহকারী চালক, গেটম্যান, সহকারী স্টেশন মাষ্টার, গ্যাংম্যান মিলিয়ে প্রায় দুই লক্ষ শূন্য পদ পড়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক পরিষেবা পাচ্ছেন না। কর্মী ইউনিয়ানগুলির দাবি, সেই পরিষেবাহীনতার মধ্য়েই এই বিপুল সংখ্যক কর্মী সঙ্কোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গোটা রেল ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। 

রেল মন্ত্রকের দাবি বিপুল আর্থিক লোকসানে চলছে রেল। বর্তমানে ১০০ টাকা আয় হলে কর্মীদের বেতন এবং পেনশন খাতেই রেলের প্রায় ৯৮ টাকা খরচ হয়। এই সমস্যার মোকাবিলায় নীতি আয়োগ আগেই কর্মী হ্রাসের সুপারিশ করেছিল। অর্থমন্ত্রক থেকেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

রেল মন্ত্রকের সূত্রে খবর, ইতিমধ্য়েই দেশের সবকটি জোনাল ম্যানেজারদের জানানো হয়েছে ৯ই অগাস্টের মধ্যে ছাঁটাই করা হবে এমন কর্মীদের একটি তালিকা মন্ত্রকে জমা দিতে। ৫৫ বছর বয়সের উর্ধ্বে যাদের বয়স, সেই কর্মীদের মধ্যে কারা এখনও কর্মক্ষম এবং কারা নয় তার ভিত্তিতেই তৈরি হবে এই তালিকা। কর্মীদের নিয়মানুবর্তিতা, নিষ্ঠা, বিগত বছর গুলিতে কতগুলো ছুটি নিয়েছে সেইসব তথ্যেরও হদিশ থাকবে সেই তালিকায়। প্রাথমিকভাবে এই তালিকায় তৈরি করা হবে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের নিয়েই। তবে ছাড় পাবেন না গ্রুপ এ এবং বি অফিসাররাও। পরবর্তীকালে তাদের নিয়েও একইরকম একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে।