'মেডিকাল ওষুধ পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করুন। পাকিস্তান বা চিন সীমান্তে যুদ্ধ করতে পাঠিয়ে দিন। কিন্তু ফাঁসি দেবেন না'। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখের আগের দিন চতুর্থবার ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এরকমই মরিয়া চেষ্টা চালালেন নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির আইনজীবী এপি সিং। কিন্তু, তাতে আর লাভ হল না। রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিমো কোর্ট এবং দিল্লির এক আদালত আসামিদের শেষ মুহূর্তের ফাঁসি রদের আবেদন ফিরিয়ে দিলেন সকলেই। কাজেই, শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটাতেই ২০১২ সালের এই জঘন্য কাণ্ডের নিষ্পত্তি হতে চলেছে।

এদিন সুপ্রিম প্রথমে ছিল পবন গুপ্তার নাবালক দাবির আবেদন। সকালেই সেটি দ্বিতীয়বারের জন্য খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারপর মুকেশ সিং ঘটনার দিন দিল্লিতে ছিলেন না দাবি করে যে আবেদন করেন, সেই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। তারপর অক্ষয় সিং ঠাকুর প্রেসিডেন্টের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করার সিদ্ধান্ত কে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করা হয়।

অন্যদিকে, দিল্লি কোর্টে চার আসামিই তাদের আইনি প্রতিকারের মামলা ঝুলে আছে বলে মৃত্যু পরোয়ানায় ফের স্থগিতাদেশ চেয়ে যে আবেদন করেছিল সেই মামলাও খারিজ হয়ে যায়। দিল্লি কোর্ট জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত দিন ও সময়েই ফাঁসি দেওয়া হবে। এরপর বিকাল সাড়ে চারটে নাগাদ ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ পবন গুপ্তার দ্বিতীয় প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেন।

ফলে ফাঁসি পিছিয়ে এড়ানো বা স্থগিত করার আর কোনও অস্ত্রই আর নির্ভয়া মামলার আসামিদের হাতে পড়ে নেই। শুক্রবার ভোরেই ন্যায় বিচার পেতে চলেছেন নির্ভয়া। নির্যাতনের সাত বছর পর।