তিনি কোনও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী নন। তিনি গেলে ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই। ২০১২ থেকে ২০২০ - তাঁকে দেখা গিয়েছিল নির্ভয়ার মা আশা দেবীর পাশে। সীমা কুশওয়া, দিল্লির ভয়ঙ্কর ধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার পক্ষের হয়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে আইনি লড়াই লড়ে, শেষে এনে দিয়েছিলেন ন্যায় বিচার। সেই সীমা কুশওয়া-ই উত্তরপ্রদেশের হাথরসের নির্যাতিতার হয়ে মামলা লড়বেন। কিন্তু, তাঁর পথেও বাধা সৃষ্টি করছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সীমা কুশওয়া নির্যাতিতা দলিত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক  দলের নেতা-নেত্রীদের মতো তাঁকেও ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ। পরে সীমা কুশওয়া সাংবাদিকদের জানান, নির্যাতিতার দাদা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে তাঁদের আইনী পরামর্শদাতা হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। সেই কারণেই ওই হতভাগ্য পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন তিনি। কিন্তু, প্রশাসন তাঁকে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না, বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সীা কুশওয়া সাফ জানিয়ে দিযেছেন, ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত না করে তিনি হাথরস ছেড়ে যাবেন না।

গত মঙ্গলবার, দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে হাথরসের ১৯ বছর বয়সী দলিত মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। সোমবারই তাঁকে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ থেকে দিল্লির হাসবপাতালে আনা হয়েছিল। তার আগে তাঁকে চরম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁর জিভ কেটে নিয়েছিল, শিড়দাড়া ভেঙে দিয়েছিল, সারা শরীরে ছিল অজস্র ক্ষতর চিহ্ন। সেইসঙ্গে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে মৃত্যুর আগে অভিযোগ করেছেন স্বয়ং নির্যাতিতা।  

তবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার দাবি করেছেন, দিল্লিতে ডাক্তারদের একটি দলের ময়না তদন্তে প্রমাণ পাওযা গিয়েছে ঘাড়ে আঘাতের আঘাতের কারণেই নির্যাতিতার মৃত্যু হয়েছে। গণধর্ষণ তো দূর ধর্ষণেরই নাকি কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, উত্তরপ্রদেশ সরকার এই ঘটনার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। সেইসঙ্গে যোগী সরকার বলেছে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এ মামলার শুনানি হবে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।