দেশের অর্থনীতির ভিত যথেষ্ট শক্তই আছে। আর্থিক বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে শুক্রবার এমনই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। একই সঙ্গে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ দাওয়াই ঘোষণা করেছেন তিনি। 

মূলত বাজারে অর্থের জোগান বাড়িয়ে এবং দেশি- বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়েই অর্থনীতির গতি বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলিকে  মূলধন জোগানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্র। গৃহ ঋণ, গাড়ি ঋণ-সহ অন্যান্য় ঋণ নেওয়া যাতে আরও সহজ হয়, তা নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ করছে সরকার। 

বাজেটে উচ্চবিত্তদের আয়ের উপরে বাড়তি সারচার্জ বসানোর ঘোষণা করেছিলেন সীতারমণ। এ দিন সেই সারচার্জ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে আধুনিক পরিকাঠামো গড়তে একশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। তার জন্য একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আরও বেশি করে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। যাতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে গতিও আসে, কর্মসংস্থানও হয়। 

মূলধনের অভাব মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলিতেও সরকার সত্তর হাজার কোটি টাকা দেবে বলে এ দিন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এর ফলে বাজারে প্রায় পাঁচ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়া সম্ভব হবে বলেও দাবি করেছেন সীতারমণ।

গাড়ি শিল্পে মন্দাও সরকারের অন্যতম চিন্তার কারণ। সেই মন্দা কাটাতে সমস্ত নতুন গাড়ি কেনার উপরে সরকারি দফতরগুলির উপরে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সীতারমণ অবশ্য দাবি করেছেন, ভোগ্যপণ্যের বাজার মন্দার যে খবর ছড়াচ্ছে তা ঠিক নয়। দেশের আর্থিক গতির বৃদ্ধি যথেষ্টই ভাল জায়গায় আছে বলেও এ দিন দাবি করেছেন সীতারমণ। 

এর পাশাপাশি শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের কর হয়রানি কমানো, কম সময়ের মধ্যে জিএসটি রিফান্ডের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সীতারমণের এই দাওয়াইয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় ভুগতে থাকা দেশের অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা হয়, সেটাই এখন দেখার।