তাঁকে বলা হত 'বিহারের আইনস্টাইন'। মৃত্যুর পর সেই প্রখ্যাত গণিতবিদ বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং-এর দেহই হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স জোগার করতে হিমশিম খেলেন নিকত্মীয়রা। অথচ বৃহস্পতিবার তাঁর শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে বিপুল আয়োজন করল বিহার সরকার। লাল কার্পেটের উপর দিয়ে হেঁটে এসে প্রচারের আলো নিজের দিকে টানতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। ফল হল ঠিক উল্টো।

আরজেডি থেকে আপ - বিরোধী দলগুলি একযোগে নীতিশ কুমার প্রশাসনের সমালোচনা করেছে। আরজেডি-র অভিযোগ, শুধু প্রয়াত গণিতববিদ-এর ক্ষেত্রেই এই সমস্যা হয়েছে তা নয়, বিহারের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেরই ছবিটা এক। আপ নেতা তথা কবি কুমার বিশভাস বলেছেন, নিজের বুদ্ধির জোরে বিশ্বকে মাথা নত করিয়েছিলেন এই বিহারী সন্তান। তাঁর প্রতি এমন প্রস্তর-হৃদয় কীকরে হল  বিহার?

দীর্ঘদিন ধরেই সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং। বুধবার তিনি পাটনা মেডিক্যাল কলেজে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দেহ নিয়ে পরিজনদের কতটা নাকাল হতে হয়েছিল, তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায় গণিতবিদের দেহ হেলায় পড়ে রয়েছে হাসপাতালের বাইরে একটি স্ট্রেচারে। আর তাঁর আত্মীয় অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে আর কীভাবে দেহ নিয়ে যাওয়া যায়, তার সন্ধান করছেন।  

এরপর কিন্তু খবর পেয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার জানান, গণিতবিদ বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং-এর মৃত্য়ু বিহারের অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কতা মতো বৃহস্পতিবার পূর্ণ রাষ্চ্রীয় মর্যাদায় শেষ কৃত্য সম্পন্ন করা হয় এই বিশ্বখ্যাত গণিতবিদের। সেখানে মুখ্য়মন্ত্রীর জন্য পাতা ছিল লাল কার্পেটও। আর এই নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং জন্মেছিলেন বিহারের ভোজপুর জেলার বসন্তপুর গ্রামে। অবিভক্ত বিহারের নেতারহাটে স্কুলে তাঁর পড়াশোনার শুরু। পাটনা কলেজ থেকে স্নাতোকোত্তর পাশ করে তিনি ১৯৬৫ সালে উচ্চতর শিক্ষার জন্য যান ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। চার বছর পর সাইকেল ভেক্টর স্পেস থিওরি-তে গবেষণা সম্পূর্ণ করে ফিরে আসেন দেশে। আইআইটি কানপুর, কলকাতার আইএসআই-সহ ভারতের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি অধ্যাপনা করেছিলেন।