আগেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, ব্রিটেনে করোনার নতুন স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে যোগ দিতে পারবেন না। তারপর থেকে জল্পনা চলছিল, এই বছর তাঁর পরিবর্তে কোন রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখা যাবে প্রধান অতিথি হিসাবে? প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রধাবন অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানোটাই প্রথা। কিন্তু, বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হল, এই বছর ভাঙতে চলেছে এই প্রথা। ২৬ জানুয়ারি পরধান অতিথি হিসাবে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির জন্য যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার কারণেই ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন না। অথচ, জনসনের সফর বাতিল জানার পর থেকএই শোনা যাচ্ছিল দক্ষিণ আমেরিকার সুরিনাম প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চন্দ্রিকাপ্রসাদ সন্তোষি-কে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। সংস্কৃত ভাষায় শপথ গ্রহণ করেছিলেন এই চন্দ্রিকাপ্রসাদ সন্তোষি, 'মন কি বাত'এ যার প্রশংসা করেছিলে স্বয়ং মোদী।

করোনার নতুন সংক্রামক মিউট্যান্ট স্ট্রেন ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়ার আগে অবশ্য, ভারতের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দারুণ আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। আমন্ত্রণপত্র পেয়ে বলেছিলেন, 'গ্লোবাল ব্রিটেন'এর জন্য দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ একটি বছরের শুরুতেই ভারত সফর করার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করার জন্য তিনি এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুজনেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছিলেন। তবে পরে গত ডিসেম্বরের একেবারে শেষে সফর বাতিলের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর জনসন নিজেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালের প্রথমার্ধেই তিনি ভারতে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।