ভারত চিন কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনা তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনা ক্ষতিয়ে দেখতে নয়া দিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে চিনা স্টাডি গ্রুপের সদস্যরা বৈঠক করেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। 

উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা। পূর্ব লাদাখ সীমান্ত এলাকার সমগ্র পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাও মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বৈঠকের। 


সেনা সূত্রের খবর গত ২ অগাস্ট পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমা রেখা নিয়ে পঞ্চম পর্যায়ের সামরিক বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষনিকভাবে সেই বৈঠক থেকে কোনও অগ্রগতি বা সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি। আর তাতেই শীতকালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমা রেখা বরাবর সেনা মোতায়েন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। ভারত নিজের এলাকা ছাড়তে রাজি নয়। প্রয়োজনে সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এক সেনা আধিকারিকের কথায় চিনা সেনার মোকাবিলায় ভারত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শীতকালের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যও তৈরি হচ্ছে ভারতীয় জওয়ানরা। আগেই এক সেনা কর্তা জানিয়েছিলেন শীতকালের জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় রসদ ও সরঞ্জাম মজুত করা হচ্ছে। লাদাখের বেশ কয়েকটি এলাকায় অগাস্ট মাসের শেষ থেকেই বরফ পড়তে শুরু করে দেয়। সেম্পেম্বর থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। 


একটি সূত্র জানাচ্ছে সম্প্রতি আলোচনায় চিন লাদাখের প্যাংগং, গোগরা  এলাকা থেকে সেনা সরাতে অস্বীকার করেছে। দোপসাং উপত্যাকা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। একটি সূত্র জানাচ্ছে প্যাংগং লেকের কাছে পাহাড় চূড়া যা স্থানীয়দের কাছে গ্রিন টপ নামে পরিচিত, সেখান থেকে সেনা সরাতে নারাজ বেজিং। কৌশলগত কারণে এই এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই এলাকা থেকে ভারতীয় সেনাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা খুব সহজ।  যদিও বেজিং দাবি করেছে যে বেশিরভাগ এলাকা থেকে ডিসএনগেজমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ছবি ধরা পড়েনি। তবে গালওয়ান, হটস্প্রিং থেকে সেনা সরানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। 

ভারতীয় সেনা বাহিনীর একটি সূত্র জানাচ্ছে প্যাংগং-এর ৫ ও ৬ নম্বর ফিঙ্গার এলাকা রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। সদ্যো পাওয়া উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে এই এলাকায় চিনা সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি পরিকাঠামো নির্মাণের ছবিও ধরা পড়েছে। ১৩ টির বেশি নৌকা  ও প্রায় ৪০টি তাঁবু তৈরি করেছে পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা।