বেশ কয়েক দিন ধরেই ঘরমুখো কলকাতায় কর্মরত মণিপুর, ত্রিপুরাসহ একাধিক রাজ্যের নার্সি ও স্বাস্থ্য কর্মীরা। একের পর এক নার্স ফিরে যাচ্ছেন নিজের রাজ্যে। এখনও পর্যন্ত শতাধিক নার্স ফিরে গেছেন। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে মুখখুলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তিনি বলেছেন  এখনও পর্যন্ত এই রাজ্যের কোনও নার্স, চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মীকে রাজ্যে ফিরে আসার কথা বলা হয়নি। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জারি করা হয়নি তেমন কোনও নির্দেশিকা। 

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং আরও বলেছেন, তাঁরা রীতিমত গর্বিত যে তাঁদের রাজ্যের নার্স, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা  কলকাতা, মহারাষ্ট্র, চেন্নাই  দিল্লিসহ দেশের একাধিন নামি শহরে কাজ করেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেইসব প্রবাসী স্বাস্থ্য কর্মীদের পুরস্কার ও মর্য়াদা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। 

পাশাপাশি মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, তাঁদের যেমন ফিরে আসার কথা বলা হয়নি, তেমনই তাঁদের আবার কর্মীস্থলে ফিরে যাওয়ার কথাও রাজ্য সরকার বলবে না। রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি অন্য রাজ্যে গিয়ে কর্মস্থলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারে তবে সেই বিষয়ে প্রশাসন কোনও হস্তক্ষেপ করবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের তরফ থেকে ফিরে আসা স্বাস্থ্য কর্মীদের ওপর কোনও চাপ তৈরি করা হবে না বলেও জানিয়েছেন। 

আরও পড়ুনঃ অভিবাসী শ্রমিকরা রাস্তায় থাকলে আদালত কী করতে পারে, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের ...

আরও পড়ুনঃ করোনা সংকট মোকাবিলায় অভিবাসী শ্রমিক ও শহরের দরিদ্রের পাশে বিশ্ব ব্যাঙ্ক, বিপুল অর্থ সাহায্য ভারতকে ..

কলকাতার আমরি, রুবি, পিয়ারলেসসহ বেশ কয়েকটি বড় হাসপাতালের নার্সরা কাজ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন নিজের শহরে। আর সেই সংখ্যাটা ২০০ র কাছাকাছি। আরমি হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানান হয়েছিল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলি এই রাজ্যে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের ঘরে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। সেই কারণে একের পর নার্স কাজ ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান হয়েছিল। কিন্তু বীরেন সিং-এর এই মন্তব্যের পর নার্সদের ঘরে ফেরা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। আগেই অবস্য বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেছিলেন, করোনা সংক্রমণ এড়াকেই কলকাতা থেকে কাজ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। রাজ্যের পরিকাঠামো নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।