জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশতবর্ষ। বাপুর জন্মদিন পালন নিয়ে সারাদিন কংগ্রেস-বিজেপি রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলল। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া। জাতির জনকের জন্মদিবসে বুধবার সারাদিনই ট্রেন্ড করল তাঁর হত্যাকারীর নাম। নেটিজেনরা বললেন 'গডসে অমর রহে'।

১৯৪৮ সালে নয়াদিল্লির বিড়লা হাউসে মহাত্মা গান্ধীকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছিল নাথুরাম গডসে। গডসে ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রাক্তন সদস্য। গান্ধী হত্যা সময় অবশ্য সে হিন্দু মহাসভার সদস্য হয়েছিল। বিড়লা হাউসের পিছনে প্রতিদিনই সন্ধ্যায় সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে প্রার্থনা করতেন গান্ধী। সেইদিনও বিকাল ৫টা নাগাদ সেই সভাতেই য়োগ দিকেই এগোচ্ছিলেন তিনি। মাঝপথে ভিড়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে এসে গুলি চালিয়েছিল গডসে। সেখান থেকে তাঁকে ধরাধরি করে বিতরে নিয়ে গেলেও প্রাণ রক্ষা করা যায়নি। পরে গডসে জানিয়েছিল, দেশভাগের সময় গান্ধী মুসলমানদের বেশি সুযোগ সুবিধা করে দেওয়াতেই তাঁকে হত্যা করেছে সে।

গান্ধীর হত্যাকারী সেই সন্ত্রাসবাদী গডসেই বর্তমান ভারতে জাতির জনকের থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত গান্ধীর জন্মদিবসে 'গডসে অমর রহে' হ্যাশট্যাগে ১০ হাজারেরও বেশি টুইট হয়েছে। কোনও কোনও গডসে সমর্থক দাবি করেছে মহাত্মা গান্ধী একজন বিশ্বাসঘাতক ছিলেন, তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন নাথুরাম গডসে। কেউ বলেছে গান্ধী হত্যা করে দেশকে রক্ষা করেছে গডসে। কেউ ব্যঙ্গাত্বক ছবি দিয়ে বলেছে, গান্ধী মুখে অহিংসার কথা বললেও, সাভারকর, নেতাজীর রাজনৈতিক হত্যা, মুসলিম তোষণ, ভারত বিভাজন, হিন্দু হত্যায় রক্তাক্ত তাঁর পা। কেউ কেউ আবৈার জানিয়েছেন গডসে তাদের হৃদয়ে রয়েছে। ২ অক্টোবরকে একজন নাথুরাম শৌর্য দিবসও বলেছে। কেউ আবার দাবি করেছেন গডসে না থাকলে হায়দরাবাদ স্বাদীন থাকত। ভারত আরও টুকরো হত।

তবে এই প্রবণতার বিপক্ষেও কম লোক মুখ খোলেননি। এই দলের লোকেরা বলেছে, নরেন্দ্র মোদী একদিকে মুখে বলছেন মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা। বলছেন গান্ধীর লেখা পড়ার কথা। কিন্তু তাঁর সমর্থদের তলে তলে গডসের পথে  চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। কেউ বলেছে, গডসে সমর্থকদের সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গিদের কোনও পার্থক্য নেই। অনেকে পরিহাস করে বলেছে এই কাণ্ড দেখার আগেই মেরে পেলার জন্য মহাত্মা হয়তো গডসেকে ধন্যবাদই দেবেন। কেউ কেউ আবার গডসেপন্থীদের ইউটিউব ভিডিও দেখে গান্ধী সম্পর্কে ধারণা না করে গান্ধী সম্পর্কে ভাল করে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে। অনেকে আবার এই প্রবণতা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এর আগে লোকসভা ভোটের সময় বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক বলে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। ভোটের সময় বিজেপি দল ও নরেন্দ্র মোদী নিজে প্রজ্ঞার সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও নাথুরাম গডসের সমর্থন কমেনি। জাতির জনকের জন্মদিনেই তাঁর হত্যাকারীকে নিয়ে নির্লজ্জ উচ্ছ্বাসে মেতেছে তারা।