পুলওয়ামা হামলার এক বছরের মাথায় ফের একটা বড় বিস্ফোরণ বলা যায়। সারা দেশের মতো কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও শুক্রবার পুলওয়ামার শহিদদের স্মরণ করলেন। কিন্তু সেই সঙ্গে তুলে দিলেন তিন-তিনটি বিস্ফোরক প্রশ্ন। তিন প্রশ্নে বিদ্ধ করলেন মোদী সরকার-কে। যা নিয়ে শিগগিরই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠল বলে।

এদিন এক টুইটে রাহুল বলেন, এদিন শহিদ স্মরণের মধ্যেই কিছু প্রশ্নও করতে হবে। এরপরই ওই বিস্ফোরক তিন প্রশ্ন তিনি বিজেপির জন্য সাজিয়ে দেন। প্রথম প্রশ্ন, পুলওয়ামা হামলার ফলে কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিল? দ্বিতীয় এই হামলার তদন্তে কী বের হয়েছে? হামলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল, তার জন্য বিজেপি সরকারে কাকে কাকে দোষী সাব্য়স্ত করা হয়েছে?

পুলওয়ামা হামলা ও তারপরে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক, এর কিছুদিন পরেই ভারতে লোকসভা নির্বাচন ছিল। নির্বাচনের প্রচার পর্বে বিজেপি নেতারা পুলওয়ামার ঘটনাকে সামনে রেখে দেশপ্রেমের হাওয়া তুলেছিলেন। বালাকোটের প্রত্যাঘাত-কে সামনে রেখে মানুষ সেনার পক্ষে না বিপক্ষে - এই প্রশ্ন তুলে বিজেপি-র পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। এদিন রাহুল টুইট খোঁচায় সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

একই সঙ্গে এই হামলার একবছর পরেও হামলার পিছনে ভারতের নিরাপত্তা গাফিলতির প্রশ্ন বন্ধ হয়নি। অন্যান্য অনেক গাফিলতির মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল একসঙ্গে ৭৮টি গাড়ির বিশাল সেনা বহর নিয়ে ভ্রমণ করাকে। এই বিশাল আকারের জন্যই ওই দিন সেনা কনভয়টি সহজ নিশানা হয়ে উঠেছিল। এছাড়া আইইডি হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হলেও, গাড়িবোমা নিয়ে হামলা হবে, এমন কোনও খবর ছিল না গোয়েন্দাদের কাছে।

নির্বাচনের প্রতচার পর্বেই কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সেই সময় বিজেপি, বিরোধীরা সেনাবাহিনী-কে অবিশ্বাস করছে বলে প্রচার চালায়। কিন্তু পরে সিআরপিএফ-এর অন্তর্তদন্তেও এই গাফিলতির বিষয়গুলি উঠে এসেছিল। ঘটনার একবছরের মাথায় ফের সেই প্রশ্নগুলি ওঠায় এই নিয়ে যে রাজনৈতিক মহলে ঝড় ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সিপিএম-এর পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম-ও এদিন বলেছেন, ৪০ সিআরপিএফ শহিদের জন্য স্মারকস্তম্ভ তৈরি করার কোনও দরকার নেই। এই স্মারকস্তম্ভ দেশের অপারদর্শিতা ও গাফিলতির কথাই মনে করাবে। ৮০ কেজি বিস্ফোরক কীকরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে পুলওয়ামায় বিস্ফোরিত হল সেই বিষয় নিয়ে ভাবনার দরকার রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।