নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিই সেঞ্চুরি করেছিল পেঁয়াজ, অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পৌঁছেছিল ১০০ টাকায়। তারপর গত সপ্তাহে কলকাতায় দেড়শ ছাড়িয়েছিল পেঁয়াজের দাম। তখনই আশঙ্কা ছিল খুব তাড়াতাড়িই, ডাবল সেঞ্চুরি করবে পেঁয়াজ। সেই আশঙ্কাকে একেবারে সত্যি করে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছাড়িয়ে গেল ২০০ টাকার গণ্ডি। এদিন মাদুরাই-সহ তামিলনাড়ুর একাধিক এলাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে।

রবিবারের দুপুরে অনেকেই মাংস খেয়ে থাকেন। আর মাংসে অল্পবিস্তর পেঁয়াজ-রসুন না থাকলে চলে না। কিন্তু, এদিন তামিলভূমে বাজারে গিয়ে পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে নয়, পেঁয়াজ কিনতে গিয়েই চোখ দিয়ে জল ঝড়ার দশা হয়েছে ক্রেতাদের। তবে এতে করে শুধু ক্রেতারাই নন, সমস্যায় পড়েছেন বিক্রেতারাও। তাঁরা জানিয়েছেন দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে পেঁয়াজের বিক্রিও। ফলে তাদের লাভের ভাঁড়ার একেবারে শূন্য।

মাদুরাই-এর এক বাজারের সব্জি বিক্রেতা মূর্তি জানিয়েছেন, যে ক্রেতা একমাস আগেও ৫ কেজি করে পেঁয়াজ কিনতেন, তাঁদেরই পেঁয়াজের ক্রয় নেমে এসেছে ১ কেজিতে। আর মূর্তির দোকানেরই এক ক্রেতা জয় শুভা জানিয়েছেন, বর্তমানে সপ্তাহে তাঁর শুধু পেঁয়াজের পিছনেই খরচ হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা। তাই পেঁয়াজ কেনা আপাতত বন্ধ রাখবেন বলেই ভাবছেন। সব মিলিয়ে দেশে পেঁয়াজ নিয়ে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে বলা যায়।  

লোকসভায় অবশ্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বারবার দাবি করেছেন ডিসেম্বরের শেষের মধ্য়েই পেঁয়াজের দামে লাগাম আসবে। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে সমস্যা আরও গভীর। জানুয়ারির আগে পেঁয়াজ-বন্দি দশা থেকে মুক্তি নেই ভারতবাসীর। কেন্দ্রের দাবি উৎপাদন কম হওয়াতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে তুরস্ক থেকে ১১০০০ টন পেঁয়াজ আনা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও পেঁয়াজের দামের ঊর্ধগমন থামার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে শনিবার এই পেঁয়াজবন্দি নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরপুরে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য এবং জনবন্টন বিভাগের মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের বিরুদ্ধে মুদফ্ফরপুর আদালতে ফৌজদারি মামলা করলেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মানুষকে ঠকিয়েছেন। তিনি পেঁয়াজের দামে লাগাম লাগাতে একেবারে ব্যর্থ। পাসোয়ান এর আগে বলেছিলেন কালোবাজারির জন্যই দাম বাড়চে পেঁয়াজের। এটা ডাহা মিথ্যে কথা বলে দাবি মামলাকারীর।