তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক ৫৫ বছরের মহিলাকে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে মারধর, গয়না লুট এবং পরে একটি কৃষি কুয়োয় ফেলে দেয় বলে অভিযোগ।

অনলাইন জুয়ার নেশায় বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এক ২১ বছরের কলেজ ছাত্র নৃশংস অপরাধ ঘটানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে। তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক ৫৫ বছরের মহিলাকে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে মারধর, গয়না লুট এবং পরে একটি কৃষি কুয়োয় ফেলে দেয় বলে অভিযোগ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম দাম্মা দিনেশ রেড্ডি। তিনি গল্লাপল্লি গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ডিগ্রি ছাত্র। গত ১ জুলাই ৫৫ বছরের জি. লক্ষ্মী নামে ওই মহিলা করিমনগরের টাওয়ার সার্কেল এলাকার একটি শ্রমিক জমায়েতের স্থানে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন। সেই সময় দিনেশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।

প্রথমে একটি বাইক ট্যাক্সিতে এবং পরে নিজের মোটরসাইকেলে করে মহিলাকে থিম্মাপুর হয়ে নুস্তুলাপুর এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানে গিয়ে মহিলাকে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৫ গ্রাম সোনার এবং ২০ গ্রাম রুপোর গয়না লুট করে বলে অভিযোগ।

Scroll to load tweet…

অভিযোগ, অপরাধের প্রমাণ লোপাট করতেই অভিযুক্ত মহিলাকে একটি কৃষি কুয়োয় ঠেলে ফেলে দেয়। কুয়োর মধ্যে পড়ে যাওয়ার পর মহিলা একটি দড়ি ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করলে, সেই দড়িটিও কেটে দেয় অভিযুক্ত। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে।

তবে মহিলা সাঁতার জানতেন। কুয়োর ভিতরে কৃষি মোটরের পাইপে বাঁধা আরেকটি দড়ি ধরে তিনি কোনওভাবে ভেসে থাকেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা কুয়োর মধ্যেই আটকে থাকার পর পরদিন সকালে এক কৃষক তাঁর চিৎকার শুনে ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দড়ি ও খাটিয়ার সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করে।

মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে করিমনগর টাউন-৩ থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে শনিবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

করিমনগরের পুলিশ কমিশনার গাউশ আলম জানান, অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে অভিযুক্ত প্রায় ৪ লক্ষ টাকা হারিয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন লোন অ্যাপ থেকে ঋণও নিয়েছিল। সেই দেনা শোধ করতেই সে পরিকল্পনা করে এই লুটের ঘটনা ঘটায়।

পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে লুট হওয়া সোনার গয়না উদ্ধার করেছে। জানা গিয়েছে, সেই গয়না করিমনগরের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। এছাড়া অভিযুক্তের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নগদ, দুটি মোবাইল ফোন এবং ২০ গ্রাম রুপোর গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করলে তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে করিমনগর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।