'আরএসএস-এর এজেন্ট'দের 'মৃত্যুদণ্ড' দেওয়ার হুমকি দিল জঙ্গি সংগঠন পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট বা পিএএফএফ। ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করেছিল মোদী সরকার। তার আগে পর্যন্ত জম্মু ও কাশঅমীরে ভারতের অন্যান্য অংশের মানুষ জমি কিনে ,স্থায়ী সবতি গড়তে পারতেন না। মোদী সরকারের এই পদক্ষেপে সেই বাঝধা দূর হয়েছিল। তবে পিএএফএফ-এর নয়া ভিডিও-তে অভিযোগ করা হয়েছে, 'নাগরিকের ছদ্মবেশে' নাকি জম্মু-কাশ্মীরে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে আরএসএস কার্যকর্তারা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে এই জঙ্গি সংগঠন। সেখানে এক মুখোশধারী ব্যক্তি-কে জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে থেকে সেখানে এসে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। সে কথা বলেছে স্থানীয় কাশ্মীরি ভাষায়। সামনে একটি টেবিলে দুটি একে-৪৭ রাইফেল এবং কয়েক রাউন্ড গুলিও রাখা ছিল। তার পিছনে ছিল একটি বইয়ের তাক।

ওই মুখোশধারী ভিডিও-তে দাবি করেছে, জম্মু ও কাশ্মীরে বাইরে থেকে লোক এনে বসতি স্থাপন করে ইসরাইলের ধাঁচে উপনিবেশ তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যেসব ভারতীয়রা এইসব উপনিবেশগুলিতে বসতি স্থাপন করতে চাইবে তাদেরকেই পিএএফএফ নিশানা করবে বলে জানিয়েছে সে। তারা বলেছে, সাধারণত তারা অসামরিক নাগরিকদের নিশানা করে না। তবে আরএসএসের যে সমস্ত এজেন্টরা কাশ্মীরে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আসবে এবং আরো যারা তাদের অনুসরণ করবে, তারা কেউ রেহাই পাবে না।

ওই মুখোশধারী জঙ্গি আরও অভিযোগ করেছে, 'হিন্দুত্ব সন্ত্রাসবাদীরা' জমি দখল করে, বাগান নষ্ট করে দিয়ে, যেন তেন প্রকারে কাশ্মীরীদের জম্মু ও কাশ্মীরে থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ওই ভিডিওতে সেনা কলোনি তৈরির জন্য জমি চিহ্নিতকরণ এবং বাগান কাটার কিছু নিউজ ভিডিও ক্লিপ-ও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি 'ইসরাইলি স্টাইলে বসতি স্থাপন করে ঔপনিবেশিকতা' বলে দাবি করেছে পিএএফএফ। তারা আরও বলেছে, 'বহিরাগতদের জম্মু ও কাশ্মীরের ধর্মীয় অবস্থান পরিবর্তন করতে দেওয়া হবে না। অ-কাশ্মীরীদের জন্য উপনিবেশ স্থাপন 'ভারতের ফ্যাসিস্ট শাসনের আরও একটি নোংরা পরিকল্পনা' বলে দাবি করেছে তারা।

তবে সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেবেন না তাঁরা, এই কথাও সাফ জানিয়ে দিয়েছে সেই মুখোশধারী। নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে দাবি করে ওই পিএএফএফ মুখপাত্র বলেছে, ভারত সরকারের এই ধরণের পদক্ষেপ রুখতে তারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতেও পিছপা হবে না।

লস্কর-ই-তৈবা কিংবা জৈশ-ই-মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদে হাত পাকাতে না পারলেও জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসবাদী দল হিসাবে গত কয়েক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরের মানচিত্রে উঠে এসেছে পিএএফএফ। চলতি বছরের শুরুতে শ্রীনগর-বারমুল্লা হাইওয়ের কাছে একটি সিআরপিএফ শিবিরে তারা হামলা চালিয়েছিল বডি ক্যাম, অর্থাৎ শরীরে ক্যামেরা লাগিয়ে। আর সেই ক্যামেরায় ওঠা হামলার ছবি-ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিল তারা। তাদের আগে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে এইভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা আর কোনও গোষ্ঠী ভাবেনি।