শিখ ধর্মগুরু নানকের ৫৫০তম জন্মদিবস উপলক্ষে ইমরান খান প্রশাসন কর্তারপুর করিডোর খুলে দিয়েছে। ৯ নভেম্বরই শিখ সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি-সহ শিখ তীর্থয়াত্রীদের প্রথম জাঠা পৌঁছবে কর্তারপুর সাহিব গুরুদ্বারে। এতে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং একজন শিখ ধর্মাবলম্বী হিসেবে খুশি হলেও মনটা বেশ খচখচে হয়ে আছে তাঁর।

তিনি জানিয়েছেন, একজন শিখ হিসেব এই তীর্থযাত্রা তাঁর কাছে একপ্রকার ইতিহাসে ফিরে যাওয়ার মতো। কিন্তু এই সৌজন্য প্রদর্শনের পিছনে পাকিস্তানের কী উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে তাই নিয়ে যারপরনাই চিন্তিত তিনি। কারণ ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানের কর্তারপুর সাহিবে তীর্থ করতে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আছে শিখরা। হঠাৎ কী এমন ঘটল যে ৭০ বছর পর তারা রাজি হল? এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে।

অনেরকে মনে করছেন, এটা ইমরান খানের নয়া পাকিস্তান গড়ার গিমিক। কিন্তু, কর্তারপুর করিডোর খোলার পরিকল্পনা ইমরান খানের নয়, পাক সেনা ও আইএসএআই-এর করা বলে দাবি করেছেন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর। তিনি জানিয়েছেন, ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলেন নভজোৎ সিং সিধু। সেই সময় ইমরান শপথ নেওয়ার আগেই সিধুকে পাক সেনা প্রধান জেনারেল বাজওয়া জানিয়েছিলেন কর্তারপুর করিডোর খোলার পরিকল্পনার কথা।

অমরিন্দর জানিয়েছেন বাজওয়া সিধুকে জানিয়েছিলেন, জানলে খুশি হবেন, আমরা কর্তারপুর করিডোর খোলার পরিকল্পনা করছি। কাজেই এই পরিকল্পনা পাক সেনা ও আইএসআই-এর দীর্ঘদিনের বলেই মনে করছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। তাই তিনি নিশ্চিত এর পিছনে পাকিস্তানের কোনও বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। তলে তলে কোনও ষড়যন্ত্র চলতে পারে। এমনটাই মনে করছেন তিনি। তাই কর্তাপুর করিডোর খোলার আনন্দের মধ্যেও মনের খচখচানি কিছুতেই যাচ্ছে না।

এর আগে ভারতের গোয়েন্দা বিভাগজানিয়েছিল কোদ কর্তারপুরেই জঙ্গি শিবির রয়েছে। বেশ কিছু পুরুষ ও মহিলাকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে তীর্থযাত্রীদের উপর জঙ্গি হামলা হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।