আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে আজ কুলভূষণ মামলার রায়। ২০১৬-য় বালোচিস্তান থেকে চর সন্দেহে কুলভূষণ যাদবকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান সেনা। এরর পরে ২০১৭ সালে পাকিস্তানের আদালতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ভারত তখন প্রাক্তন নৌ সেনা অফিসারের মৃ্ত্যুদণ্ড রুখতে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে আবেদন জানালে মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। আজ সেই মামলার রায়। 

আন্তর্জাতিক আদালতে কুলভূষণের পক্ষে বেশ কয়েকটি যুক্তি দিয়েছে ভারত। এই যুক্তিগুলির উপরে ভিত্তি করেই পাকিস্তানের হারের আশা করছে দেশ। এই যুক্তিগুলির মধ্য়ে অন্যতম পাকিস্তানের ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন। দেখে নেওয়া যাক কী কী ভাবে পাকিস্তান ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন করছে 

আরও পড়ুনঃ অভিনন্দনের মতোই কি দেশে ফিরবেন কুলভূষণ, জানা যাবে ১৭ জুলাই

১) কুলভূষণকে অপহরণ করে গ্রেফতার করে পাকিস্তান ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের কাছে ২০১৭-র ৮ মে আবে দন করে ভারত। 

২) ভিয়েনা চুক্তির আর্টিকল ৩৬ অনুযায়ী পাকিস্তানের এই মামলায় যা করার কথা ছিল- 

- কুলভূষণকে অপহরণ করে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের ভারতীয় দূতাবাস আধিকারিকদের তা জানাতে দেরি করা উচিত হয়নি।

- ভারতের দূতাবাস আধিকারিকদের কুলভূষণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। 

- কুলভূষণ যাদবেরও ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকদের সঙ্গে যখন তখন যোগাযোগ করার স্বাধীনতা রয়েছে। 

- কুলভূষণ যে ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন । এই অধিকারের কথা পাকিস্তান যাদবকে জানাতে বাধ্য। 

- বন্দিদশায় কুলভূষণ যাদব যদি ভারতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়, তা হলে পাকিস্তানের দায়িত্ব সেই খবর ভারতের কাছে পৌঁছে দেওয়া। 

- ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকদের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে যাদবের সঙ্গে দেখা করার এবং মামলা নিয়ে আলোচনা করার। 

৩) ভারত আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে জানায় ভিয়েনা চুক্তি অমান্য করেছে পাকিস্তান। ভারতের দাবি ছিল, ২০১৬-র ৩ মার্চ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কুলভূষণকে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ভারতের কাছে এই খবর প্রকাশ করে। কিন্তু কেন এই খবর দিতে দু সপ্তাহ লেগে গেল সেই বিষয়ে কিছু জানায়নি পাকিস্তান। 

৪) পাকিস্তান যে ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে তার আরও একটি প্রমাণ হল, কুলভূষণকে জানানো হয়নি যে, তিনি ভারতীয় দূতাবাস আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। 

৫) গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পর থেকেই ভারতীয় দূতাবাস থেকে কুলভূষণের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করতে চাওয়ার পরেও  পাকিস্তান সেই অনুমতি দেয়নি। 

৬) বন্দিদশায় থাকাকালীন কুলভূষণের থেকে পাওয়া বয়ানেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে কুলভূষণকে। এমনকী, কুলভূষণ নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর হয়ে মামলা লড়ার জন্য কোনও আইনজীবী নিতে পারেননি।