লাদাখ সীমান্ত চিন আর ভারতের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা। এই পরিস্থিতিতে এখনও পাকিস্তান চিনের মত কোনও উদ্যোগ নেয়নি। সীমান্ত সংলগ্ন কোনও এলাকায় তৈরি হয়নি নতুন কোনও নির্মাণ কাজ। কিন্তু পাকিস্তান চিনের তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কাশ্মীরের জঙ্গিদের মদত করতে চাইছে। তেমনই জানাচ্ছে এক সেনা কর্তা। তাই পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, সেই জন্যই ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা। 

সেনা বাহিনীর এক কর্তার কথায় পাকিস্তান ভারত পাক সীমান্তে এখনও পর্যন্ত খুব একটা তৎপর নয় পাক সেনাবাহিনী। বড় কোনও নির্মাণ কাজও নজরে পড়েনি ভারতীয় টহলরত জওয়ানদের। কিন্তু পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ওপর নজর রাখার জন্য অতিরিক্ত  ২-৩ ব্যাটালিয়ান সেনা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন ভারতীয় বাহিনীকে রীতিমত সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিন ও পাকিস্তান যদি যৌথভাবে হামলা চালায় তা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। 

ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, শীত শুরু হওয়ার আগেই অনুপ্রবেশকারীদের জম্মু ও কাশ্মীরে পাঠিয়ে দেওয়ার একটা ছক কষেছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। পাশাপাশি ভূস্বর্গের স্থানীয় সন্ত্রাসবাদীদের অস্ত্র সাহায্যেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ কাশ্মীর সীমান্তে যেসব এলাকায় দিয়ে অনুপ্রবেশ হয়  শীতকালে প্রবল তুষারপাতের কারণে সেই রাস্তাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। তাই শীত শুরু হওয়ার আগেই কাজ গুছিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর পাকিস্তান। কিন্তু সেই দিকেও রীতিমত নজর দিয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশের একাধিক ছক বানচাল করা হয়েছে।  

সেনা বাহিনী সূত্র খবর পাকিস্তানের নতুন ছক, কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই জঙ্গিদের এদেশে পাঠিয়ে দেওয়া। পরে ড্রোনের মাধ্যমে তাদের কাছে আস্ত্র পাঠিয়ে দেওয়া। সেই ছকও রীতিমত ভেস্তে দিয়েছে ভারত। কারণ ইতিমধ্যেই সীমান্তে এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক অস্ত্র। আর সেগুলি অধিকাংশ তৈরি হয়েছে চিনে। সেনা সূত্রে খবর অধিকাংশ অস্ত্রই যে চিনের তৈরি তার প্রমাণও তাদের হাতে রয়েছে। সেনা সূত্রে খবর পাকিস্তান চিন থেকে প্রচুর পরিমাণে হেক্সাকোপ্টারস কিনেছে। ভারতীয় সুরক্ষাবাহিনী যেগুলি সীমান্ত এলাকা থেকে যেসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সেগুলি চিনের নরিনকো সংস্থার তৈরি। যা থেকে কিছুটা হলেও পরিষ্কার যে পাকিস্তান জঙ্গিদের মদতের জন্য চিনের তৈরি অস্ত্রই ব্যবহার করছে।