জম্মু ও কাশ্মীরের বদগামে পাক লস্কর জঙ্গি হাসিম মুসার মৃতদেহ উদ্ধার করল নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের প্রাক্তন এই প্যারা-কমান্ডো ২০২৫ সালের পহেলগাম হামলার অন্যতম মূল চক্রী ছিল। তল্লাশি অভিযানের সময় গুলির লড়াইয়ে সে খতম হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরের বদগাম জেলার পালময়দান এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় এক পাকিস্তানি লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তার নাম মহম্মদ আসিফ ওরফে হাসিম মুসা। তার কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

শ্রীনগরের চিনার কর্পস মুসার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, "ভোরবেলা পালময়দান এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় পাক মদতপুষ্ট লস্কর জঙ্গি মহম্মদ আসিফ ওরফে হাসিম মুসার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সঙ্গে মিলেছে প্রচুর যুদ্ধাস্ত্র।"

কীভাবে হল এনকাউন্টার?

সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ইউসমার্গ এলাকায় 'অপারেশন কোরাগ' (OP KORAG) শুরু করে। যৌথ তল্লাশি অভিযান চলাকালীন জওয়ানরা সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পান। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হলে তারা গুলি চালাতে শুরু করে। এরপরই দু'পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলির লড়াই শুরু হয় এবং হাসিম মুসা খতম হয়।

জঙ্গির পরিচয় ও পুরনো অপরাধ

নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে। ২০২৫ সালে পহেলগামে যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল, তার অন্যতম মূল চক্রী ছিল এই হাসিম মুসা। ওই হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ তিন পাকিস্তানি নাগরিক ও লস্কর জঙ্গি— আদিল হুসেন ঠোকর, আলি ভাই এবং হাসিম মুসাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। নিরাপত্তা সংস্থার সূত্র জানাচ্ছে, হাসিম মুসা একসময় পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (SSG) প্যারা-কমান্ডো হিসেবে কাজ করত।

পহেলগাম হামলায় এনআইএ-র তদন্ত

ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) পহেলগাম জঙ্গি হামলা মামলায় আগেই সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল। এর মধ্যে পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা এবং তাদেরই শাখা সংগঠন দ্য রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর নাম রয়েছে। পহেলগাম হামলার ছক কষা এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে এনআইএ। ১৫৯৭ পাতার ওই চার্জশিটে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাটকেও অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এখনও চলছে অভিযান

মৃতদেহ ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি এই চলমান অভিযানেরই একটি অংশ। আশপাশে আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে আছে কি না বা আরও অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।