ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে চিনের দিকে গিয়েছিল। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বেজিং। কিন্তু সদ্যো প্রকাশিত একটি উপগ্রহ চিত্রে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যদের ভূমিকা। কারণ দেখা যাচ্ছে প্যাংগং লেকের উত্তর প্রান্তে রীতিমত তৎপর চিনা সেনা। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনও নির্মাণকাজ জারি রেখেছে তারা। আর লালফৌজের অবস্থানের কেন্দ্র থেকে ফিঙ্গার ফোরের ফ্ল্যাস পয়েন্টের দূরত্ব মাত্র ১.৭ কিলোমিটার। ফিঙ্গার ৪ আর ৫এর মধ্যবর্তী এলাকায়  ২০টিরও বেশি বর্মদিয়ে সুরক্ষিত সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন রয়েছে। আর ওই এলাকায় একাধিক ভারী সমরযানের চলাফেলার দাগও লক্ষ্য করা গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন সমস্ত গাড়ি এসেছিল চিন সীমান্তের দিক থেকে। 

ফিঙগার ৪ থেকে সরে গিয়ে ফিঙ্গার ৫ এলাকায় নতুন করে আরও বেশ কয়েকরটি তাঁবু তৈরি হয়েছে। যা গতবারে প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখতে পাওয়া যায়নি। সেনা সূত্রে খবর ৫ নম্বর ফিঙ্গার এলাকায় নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেছে চিনারা। আর তাতেই প্রমান হয় খুব তাড়াতাড়ি পাততাড়ি গোটাতে রাজি নয় লাল ফৌজ। দীর্ঘদিনের জন্যই এই এলাকায় মোতায়েন থাকার পরিকল্পনা করেই তারা প্যাংগং-এর উত্তর প্রান্তে ঘাঁটি তৈরি করেছে।

সেনা সূত্রে খবর নতুন উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে হেলমেট পাহাড়ের চূড়ায় ভারত ও চিন কোনো দেশের সেনা বাহিনী অবস্থান করে নেই। তবে পাহাড়ের পাদতল চিনা সেনা দখল করে রয়েছে। কারণ ছবি ধরা পড়েছে চিনা সমরযান আর তাঁবুর ছবি। আবার প্যাংগং-এর উত্তর প্রান্তে ফোর ফিঙ্গারের  রেডলাইন বরাবর এলাকা থেকে সমস্ত তাঁবু আর সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে চিনারা। এই এলাকায় যে লালফৌজ ঘাঁটি তৈরি করে বসেছিল তার প্রমাণ অবশ্য এখনও রয়েছে। কারণ বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্মাণ চিহ্ন রয়েগেছে। গত সোমবার এই এই ছবি তোলা হয়েছিল বলেই জানান হয়েছে। 


চিনা সেনার আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্যাংগং লেকের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে কড়া নজরদারী চালাচ্ছে ভারত। সেনা সূত্রের খবর বেশ কয়েকটি জায়গায় চিনা বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান করছে ভারতীয় জওয়ানরা। মঙ্গলবার রাতে চিনা সেনা  আবারও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অমান্য করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই সময়ই আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সীমান্ত পরিস্থিতি। কিন্তু তারপর ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের কথোপকথের পরেও সীমান্ত উত্তাপ করেনি। অন্যদিকে সীমান্ত উত্তাপ প্রসমনে এদিন আবারও মস্কোতে চিনের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই তিনি বলেছিলেন লাদাখ সীমান্তের পরিস্থিতি রীতিমত গুরুতর। আর তার প্রভাব পড়তে পারে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর।