জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় পঞ্চায়েত প্রধান অজয় ​​পণ্ডিতা ভারতীর হত্যার পর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কাশ্মীরের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্প্রদায়ের পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। এমনকী দলে দলে তারা কাশ্মীর উপত্যকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলেও জানা যাচ্ছে।

পুলওয়ামা জেলার এক গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ পণ্ডিত জানিয়েছে অজয় পন্ডিত ভারতী তাঁদের এক সাহসী সহকর্মী ছিলেন। তাঁর হত্যায় তাঁরা হতবাক। তাঁরা এখন প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন। তাই উপত্যকা ছেড়ে জম্মুতে পালিয়ে এসেছেন। পণ্ডিত সম্প্রদায়ের মধ্যে এই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সোমবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসবাদীদের হাতে অজয় ​​পণ্ডিতা ভারতীর মৃত্যুতে। জম্মুতে পালিয়ে আসা নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যরা সকলেই বলছেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা আর উপত্যকায় ফিরে যাবেন না।

এক মহিলা পঞ্চায়েতের সদস্য জানিয়েছেন, তিনি কয়েক সপ্তাহ আগেই কিছু ব্যক্তিগত কাজের জন্য জম্মুতে এসেছিলেন। কিন্তু অজয় ​​পণ্ডিতার হত্যার পর তিনি আর উপত্যকায় ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেনই না। তাঁর অভিযোগ কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলে প্রশাসন তাঁদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে শুধু হিন্দু পঞ্চায়েত সদস্য ও পঞ্চায়েত প্রধানরাই নন, অজয় পন্ডিত ভারতীর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে উপত্যকায় বসবাসরত কয়েক শতাধিক কাশ্মীরি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে জেহাদি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসহাদীদের অত্যাচারে ৩.৫ লক্ষেরও বেশি কাশ্মীরি পন্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মোদী সরকারের আশ্বাসে তাঁরা ফের ঘরে ফেরার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফের একবার বিপন্ন বোধ করছেন তাঁরা।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে, নয়াদিল্লিতে কাশ্মীরি পন্ডিত সম্প্রদায়ের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে দেখা করে বাস্তুচ্যুত হিন্দু পণ্ডিতদের উপত্যকায় সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বলেছিলেন মোদী সরকার তাঁদের সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীদের হাতে কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের পঞ্চায়েত প্রধানের হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনাটি এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বড় ধাক্কা দিয়েছে।