পুলওয়ামায় বর্বরোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনার প্রায় একবছর পূর্ণ হতে চলল। কিন্তু, একটা বছর সময়ে সন্তান বারানোর শোক যেমন ভুলতে পারেননি কনস্টেবল মনোজ কুমার বেহরার বাবা-মা, তেমনই পড়েছেন তীব্র দারিদ্রের কবলে। ঘটনায় শহিদ হওয়া ৪৫ জন সিআরপিএফ জওয়ানদের একজন ছিলেন মনোজ। সরকারের পক্ষ থেকে যেসব আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার সবই পেয়েছে বেহরা পরিবার। কিন্তু অভিযোগ, মনোজের স্ত্রী যাবতীয় অর্থ নিয়ে তাঁদের বাড়ি ছেড়েছেন।

শহীদ কনস্টেবল ওড়িশার কটক জেলার নিয়ালি এলাকার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনোজ কুমারের বাবা জিতেন্দ্র বেহরা জানান, ছেলের মৃত্যুর পরে পুত্রবধূ এলিয়ালেত বেহরা সরকারের কাছ থেকে সমস্ত আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন। রাজ্য সরকারের দেয় ২৫ লক্ষ টাকা, আর কেন্দ্রীয় সরকার আরও ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। পুরো টাকাটা নিয়েই তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। তাই পুত্র হারানোর শোকের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আর্থিক অনটনে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কারণ মনোজই তাঁদের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিল।

জিতেন্দ্র বেহরার আরও দাবি, বেঁচে থাকার সময় ছেলেই তঁদের দেখাশোনা করত। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের পুরো টাকাটাই পাঠিয়েছিল তাঁদের বউমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তারপরই বউমা তাঁদের জানান, ওই অর্থের উপর তাঁদের কোনও অধিকার নেই। এই অবস্থায় সাহায্যের জন্য কী করতে হবে, কোথায় যেতে হবে - কিছুই তিনি বুঝে পাচ্ছেন না।

মনোজের বিধবা স্ত্রী ইলিয়ালেট মেনে নিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে মোট ৫১ লক্ষ টাকা পেয়েছেন তিনি। তবে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, সেই টাকা এখনওপাননি বলে দাবি করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে চাকরি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব মানেননি। তাঁর বক্তব্য তাঁদের মেয়ে এখন খুবই ছোট। আরও তিন বছর পর মেয়ের বয়স পাঁচ বছর হবে। তখনই তিনি সরকারের চাকরি নেবেন। সরকারের কাছ থেকে পাওয়া টাকাটা তিনি মেয়েকে বড় করার কাজে ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন। এই অর্থ ব্যয়ে তাঁর মেয়ে ভালো শিক্ষা গ্রহণ করবে, এমনটাই তাঁর ইচ্ছে।

গ্রামবাসীরা মনোজের স্ত্রীর এই আচরণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। মনোজের বাবা-মা'এর সঙ্গে চূড়ান্ত অবিচার করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁরা জানিয়েছেন মনোজের মৃত্যুর পর তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা'র জন্য এই পরিণতি অপেক্ষা করবে, তা তারা ভাবতেই পারেননি। তাদের তারা আয়ের কোনও উৎসই নেই বলে জানিয়েছেন তাঁরা।