গত বছরের জুন মাসের আগে  থেকেই দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল পূর্ব লাদাখ সেক্টরে চিনা সেনার অনুপ্রবেশের অভিযোগে। ২০ জুন গ্যালওয়ান উপত্যকায় চিনে সেনার অনুপ্রবেশ রুখতে গিয়ে মৃ্ত্যু হয়েছিল ২০ ভারতীয় জওয়ানের। আর এই বছর মে মাসের শেষে বা  জুনের প্রথম সপ্তাহে সেই গ্যালওয়ান উপত্যকা ঘুরে দেখতে পারেন প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি।কমিটির সদস্যরা প্যাংগং হ্রদও পরিদর্শন করবেন বলে সূত্রের খবর। 

প্রবীন বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়াল ওরামের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের সংসদীয় কমিটি পূর্ব লাদাখ সেক্টরের প্যাংগং ও গ্যালওয়ান উপত্যকা পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক আধিকারিক। প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। যিনি প্রথম থেকে সরব হয়েছিলেন চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ে। রাহুল গান্ধী একাধিকবার অভিযোগ করছেন, চিন ভারতের জমি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির শেষ বৈঠকেই পূর্ব লাদাখ সেক্টরের নির্বাচিত এলাকা পরিদর্শের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ওই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী। কমিটির সদস্যরা যেহেতু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকা পরিদর্শন করতে চায় তাই এটির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। 

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে অধীরের প্রশ্ন, 'উপযুক্ত সময়' ফরিয়ে দেওয়া হবে রাজ্যের মর্যাদা বললেন অমিত ...

'ধ্বংস মানব রাহুল গান্ধী', সংসদে কংগ্রেসকে চড়া সুরে আক্রমণ নির্মলা সীতারমনের ...

প্রায় ৯ মাস ধরেই পূর্ব লাদাখ সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকায় চিনা সেনা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা ছিল। চলতি সপ্তাহে ভারত ও চিন দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকা। প্যাংগং লেক এলাকার উত্তর ও দক্ষিণ তীর থেকে সেনা সরানোর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও দুই দেশ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানিয়েছেন চুক্তি অনুযায়ী ফিঙ্গার ৮ অঞ্চলে পূর্ব চিনা সেনা ফিরে যেতে রাজি হয়েছে। আর ভারতীয়রা ৩ লম্বর আঙুলে ধনসিং থাপা পোস্টে তাদের স্থায়ী ঘাঁটতে অবস্থান করবে। আগের পর দুটি দেশই নির্দিষ্ট এলাকায় পেট্রোলিং চালাবে। 

যদিও এই ঘটনার পরেও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন ভারত সরকার ভারতীয় ভূখণ্ডকে সমর্পণ করেছেন। যাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক স্পষ্টতই মিথ্যা বলে অভিহত করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্যাংগং তসো এলাকায় ভারতীয় অঞ্চল ৪টি ফিঙ্গার অবধি রয়েছে। এই অঞ্চলে উভয় পক্ষের স্থায়ী পদসমূহ দীর্ঘস্থায়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত।