সেতুটির বয়স মাত্র ২৯ দিন। ২৯ দিন আগেই প্রায় ২৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি, বিহারের গোপালগঞ্জ এবং পূর্ব চম্পারন জেলা সংযোগকারী সেতুটির উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। বুধবার রাতে ওই অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের পরই নদীর উপর ভেঙে পড়ল একেবারে নতুন সেতুটির একাংশ। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিহারের নির্বাচনের আগে নিতিশ কুমার সরকার যে এই সেতু ভেঙে পড়ায় জোর ধাক্কা খেল, তা বলাই বাহুল্য।

গন্ডাক নদীর উপরের ১.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সাত্তারঘাট মহাসেতু-টি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে। বিহার রাজ্য পুল নির্মাণ নিগম লিমিটেড গত আট বছরে ২৬৩.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণ করেছিল। গত ১৬ জুন লোক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল সেতুটি। কিন্তু, একমাসও টিকল না সেই সেতু।

জানা গিয়েছে গত দু'দিন ধরে ওই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে গণ্ডক নদীর জল ফুঁসে উঠেছিল। নদীর প্রবল জলস্রোতে সেতুর সঙ্গে রাস্তার সংযোগকারী কালভার্টটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বুধবার রাতে নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার পর বাল্মীকি নগর থেকে জল ছাড়া হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত জলের চাপেই কালভার্টটি একেবারে ভেসে গিয়েছে। গোপালগঞ্জ ও পূর্ব চম্পারন জেলার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র বড় যোগসূত্র। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি-র নেতা তেজশ্বী যাদব এবং বিহার কংগ্রেসের প্রধান মদন মোহন ঝা দুজনেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন। তেজশ্বী যাদব এর জন্য নিতিশ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। বিহার কংগ্রেসের প্রধান ডাঃ মদন মোহন ঝা হিন্দিতে লিখেছেন সেতু ভাঙার জন্য যেন 'ইঁদুরদের' দোষ দেওয়া না হয়। প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে নিতিশ সরকারের এক মন্ত্রী বিহারের ভয়াবহ বন্যার জন্য ইঁদুরকে দায়ী করেছিলেন। তাদের গর্তের জন্য বাঁধ দুর্বল হয়েই বন্যা হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন।