নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উত্তর প্রদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় শাখা শনিবার বোরখা, মাস্ক, হেলমেট বা ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকা গ্রাহকদের কাছে গয়না বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। 

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উত্তর প্রদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় শাখা শনিবার বোরখা, মাস্ক, হেলমেট বা ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকা গ্রাহকদের কাছে গয়না বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। তারা দাবি করেছে, বেশ কয়েকটি জেলায় চুরি, ডাকাতি এবং প্রতারণার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউপিজেএ-এর জেলা সভাপতি কমল সিং বলেন, 'আমরা মুখ ঢাকা কোনও গ্রাহকের কাছে গয়না বিক্রি করব না। মুখ ঢাকা কোনও ব্যক্তি অপরাধ করলে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায় না। এই কারণে আমরা আমাদের দোকানের সামনে পোস্টার লাগিয়েছি, যেখানে বলা আছে যে মাস্ক, বোরখা, হেলমেট বা ওড়না পরে দোকানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।'

সিং বলেন, 'আমাদের নিরাপত্তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও গ্রাহক হিজাব পরে এলে দোকানে প্রবেশের আগে তাঁ মুখ থেকে তা সরিয়ে ফেলা উচিত, যাতে গয়না ব্যবসায়ীরা নিরাপদ বোধ করতে পারেন।' ইউপিজেএ-এর সভাপতি সত্য নারায়ণ শেঠ বলেন, ঝাঁসি সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার গয়নার দোকানেও একই ধরনের পোস্টার লাগানো হয়েছে। বারাণসীতে হাজার হাজার গয়নার দোকান রয়েছে। মুখ ঢাকা ব্যক্তিদের নিয়ে সবাই সমস্যায় পড়ছেন। সংগঠনের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে তারা কোনও ব্যক্তির ধর্মের বিরোধিতা করে না। তারা কেবল গয়না ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্যই এটি করছে। মুসলিম গ্রাহকরা বোরখা পরে আসতে পারেন, তবে দোকানে প্রবেশের আগে তাঁদের তা খুলে ফেলা উচিত, যাতে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।'

যদিও, স্থানীয় একজন গয়না ব্যবসায়ী শাহিদ বলেন, 'বোরখা পরা গ্রাহকদের দোকানে প্রবেশে বাধা দেওয়াটা ভুল। এমন করলে গ্রাহকরা চলে যাবেন। বোরখা পরা কোনও নারীকে তা খুলতে বলাটা অপমানজনক হবে। বোরখা পরে চুরি করাটা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, যেমনটা বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর এক নারীর বোরখা টেনে খোলার ঘটনাটি ছিল। দোকানে কোনও নারী কর্মচারী থাকলে তিনি ওই নারীর মুখ দেখতে পারেন, কিন্তু একজন পুরুষ কর্মচারী ওই নারীর মুখ দেখার জন্য বোরখা খুলতে পারেন না। এটা ঠিক নয়।'