অর্থনীতিতে এই বছরের নোবেল জয়ী হিসেবে বাঙালী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে গত সোমবার (১৪ অক্টোবর)। তার থেকে দিন তিনেক কাটতে না কাটতেই একের পর এক বিজেপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক সংযোজন প্রাক্তন কেয়ারটেকার অর্থমন্ত্রী তথা বর্তমান রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল।

নোবেল জেতার পরই ভারতীয় অর্থনীতি বেহাল দশা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন অভিজিৎ। নোবেল জয়ের দিনই নিজের কর্মস্থল এমআইটি-তে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ভারত সরকার বর্তমানে বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থনীতির থেকে বেশি জনমোহিনী গুণকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকী, লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের ইস্তেহারে যে 'ন্য়ায়' প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ভারতের অর্থনীতির হাল ফেরাতে সেই রকম নীতি গ্রহণের পক্ষে খোলাখুলি সমর্থন জানিয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।

তাতে স্বাভাবিকভাবেই মনক্ষুণ্ণ হয়েছেন বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে অন্যান্য বিজেপি নেতারা নোবেল জয়ের জন্য অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানালেও দিন তিনেক যেতে না যেতেই তাঁরা নোবেলজয়ীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

শুক্রবার পুনের এক অনুষ্ঠানে পীযূষ গয়াল বলেন, নোবেল  জয়ের জন্য তিনি অভিজিৎ-কে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু সকলেই জানেন অভিজিৎ-এর চিন্তা-ভাবনা ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের চিন্তধারা বাম-ঘেষা বলে দাবি করেন রেলমন্ত্রী। আরও বলেন বলেন অভিজিৎ কংগ্রেসের ন্যায়-এর প্রশংসা করেছেন, যা ভারত গ্রহণ করেনি।

পীযূষ গয়ালের আগে আরও বেশ কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন বিজেপি নেতাকেও অভিজিৎ-এর ভাবনার বিরোধিতা করতে শোনা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিজেপি সাংসদ অনন্তকুমার হেগরে-ও নোবেল জয়ী বাঙালী অর্থনীতিবিদকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি দেশে 'মুদ্রাস্ফীতি ও করের হার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন'। প্রাক্তন বিজেপি নেতা ও বর্তমানে মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় একই সুরে বলেছেন, ভাগ্যিস অভিজিৎ ন্যায় প্রকল্পের জন্য নোবেল পুরষ্কার পাননি।

স্বাভাবিকভাবেই, বাংলায় দল নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতারা পীযূষ গয়ালের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তৃণমূলের বক্তব্য, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু বাংলা নয়, পুরো দেশকে গর্বিত করেছেন। এই বক্তব্য থেকে বিজেপির সংকীর্ণ মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। এটাই পদ্ম শিবিরের মনোভাব। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিজেপি যত কম কথা বলে ততই ভাল।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, বিজেপি এবং পীযূষ গয়ালের মতো নেতাদের অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পছন্দ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ বিজেপি বিএসএনএল, রেলের বেসরকারীকরণে বিশ্বাসী, যা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মতামতের বিরোধী। কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল জিতে দেশকে যে সম্মান এনে দিয়েছেন তা কি 'ন্যায়' প্রকল্পকে সমর্থন করার জন্য হারিয়ে গিয়েছে? তাঁর মতে এই মন্তব্য বিজেপি নেতাদের শিক্ষার মানকেই প্রতিফলিত করে।