৩৮ বছরের রামপুকার পণ্ডিত। বিহারের বাসিন্দা। কিন্তু সংসারের অভাব ঘোচাতে দেশের রাজধানীতে চলে এসেছিবেন। সুদূর বিহারের পড়েছিল তাঁর পরিবার, স্ত্রী আর দুই সন্তান। সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু লকডাউন তছনছ করে দিল রামপুকার পণ্ডিতের জীবন। লকডাউনের কারণে বাস, ট্রেন না বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন রামপুকার পণ্ডিত। 


দিল্লিতে নির্মান শ্রমিকের কাজ করতেন রামপুকার। বাড়ি ফিরতে মরিয়া ছিলেন। সুদূর দিল্লিতে বসেই তিনি খবর পয়েছিলেন তাঁর দুধের শিশু অসুস্থ। আর সেই খবর পেয়েই বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই করতে পারেননি। উল্টে পুলিশের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। রাজধানীতে বসেই পান ছেলের মৃত্যু সংবাদ। তারপরই দিল্লির নিজামুদ্দিন ব্রিজের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাই সেই কান্নার ছবিও এখন ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিক রামপুকারকে দেশের অধিকাংশ মানুষ চিনলেও তিনি চিরকালের মত হারিয়েছেন তাঁর সন্তানকে। বাবা হয়ে শেষ সময়ও সন্তানের কাছে আসতে পারেননি। সেই ব্যর্থতা কুরে কুরে খাচ্ছে তাঁকে। হয়তো  সারা জীবন এই আক্ষেপ থেকে যাবে। 

বেগুসরাইতে গেছে পৌঁছেছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন হাসপাতালে। করোনাভাইরাসে তিনি সংক্রমিত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে হাসপাতালে দেখতে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। কিন্তু চিকিৎসকরা কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। দুজনে মাস্ক পরেছিলেন। কিন্তু সব ছাপিয়েই তিন জনের চোখের জল দেখতে পারে পেয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকা। চরম এই সংকটে তাঁরা একে অপরের আরও কাছে আসতে চাইছিলেন। কিন্তু  তার অনুমতি পাননি। 

তবে চরম এই সংকটের মধ্যে পড়ে রামপুকার জানিয়েছেন,  শ্রমিকদের কোনও দেশ হয় না। শ্রমিকদের জীবন বলেও কিছু থাকতে নেই। তাঁর অভিযোগ, সন্তান অসুস্থ থাকার পর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাড়িতে থাকতে বলার নির্দেশ দিলেও কোনও ব্যবস্থা করেনি। এমন কী এক পুলিশ অধিকারিক তাঁকে বলেছিল কটাক্ষ করে বলেছিল, আপনি বাড়ি ফিরে গেলেই কী আপনার সন্তান বেঁচে উঠবে। এখন লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় আপনাকে কোথাও পাঠান যাবে না। তবে দিল্লির এক মহিলার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। কারণ সেই মহিলা শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেদিয়েছিল। পাশাপাশই তাঁর হাতে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকাও দিয়েছিল। আর কিছুদিন পরে হয়তো বাড়ি ফিরে যাবেন রাম পুকার পণ্ডিত। কিন্তু তাঁকে সহ্য করতে হবে স্ত্রীর ফাঁকা হয়ে যাওয়া কোল। সেই যন্ত্রণা কি কোনও দিনও ভুলতে পারবেন পণ্ডিতজি?