Rashtriya Ekta Diwas: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একতা নগরে ৪০০ কোটির প্রকল্পের উদ্বোধন ও রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের বিশেষ প্যারেডের খুঁটিনাটি জেনে নিন।

শনিবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মজয়ন্তী। এই উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দেশের ঐক্য ও সংহতিতে প্যাটেলের অবদান স্মরণ করেন দুজনেই।

সর্দার প্যাটেলকে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের শ্রদ্ধা

এক্স (X) হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্যাটেলকে "অখণ্ড ভারতের স্থপতি" এবং দেশের "লৌহমানব" বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সক্ষম ভারত গড়তে প্যাটেল নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মাতৃভূমির সেবায় তাঁর ত্যাগ ও নিষ্ঠা উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে গভীর অনুপ্রেরণা বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

'রাষ্ট্রীয় একতা দিবস' উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অমিত শাহ। এক্স-এ তিনি প্যাটেলকে আধুনিক ভারতের স্থপতি এবং জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতীক বলে বর্ণনা করেন। শাহের কথায়, সাহস ও দূরদৃষ্টির জোরে বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যে বিভক্ত দেশকে এক সূত্রে গেঁথেছিলেন প্যাটেল। অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস চালু করে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোরও শক্ত ভিত তৈরি করেন তিনি। পাশাপাশি খেড়া ও বারদোলি সত্যাগ্রহের মাধ্যমে কৃষকদের অধিকারের লড়াইকে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রাখা প্যাটেলের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত' গড়তে প্রতিটি নাগরিককে অনুপ্রাণিত করবে বলেও জানান শাহ।

গুজরাতের একতা নগরে বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

এদিকে, গুজরাতের একতা নগরে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার থেকে গুজরাতে দু'দিনের সফর শুরু করেছেন তিনি। শনিবার সকালে স্ট্যাচু অফ ইউনিটিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিন শুরু করেন মোদি। এরপর ৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। পরে রেইন ফরেস্ট এবং বামন বৃক্ষ বাটিকা পরিদর্শন করার পর সন্ধ্যায় মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা তাঁর।

বিশেষ গুরুত্ব মাওবাদীদের অবসানের সাফল্যে

এবারের রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের প্যারেডের অন্যতম আকর্ষণ ২০২৬ সালে সশস্ত্র মাওবাদী কার্যকলাপের অবসানের সাফল্য উদ্‌যাপন। প্যারেডে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা কর্মী এবং প্রায় ৪,৭০০ শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) যে দলগুলি মাওবাদী দমনে সামনের সারিতে ছিল, তারা প্যারেডে থাকছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে দিয়ে প্রতিটি দল যাওয়ার সময় একাধিক এলইডি স্ক্রিনে তাদের সাফল্যের তথ্যচিত্র দেখানো হবে।

ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা (এনএসডি) একটি বিশেষ পরিবেশনা করবে। এতে মাওবাদী হিংসায় আক্রান্ত ১২৬টি জেলার প্রায় ২,০০০ শিল্পী অংশ নেবেন। মাওবাদী কার্যকলাপের সময় সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি কতটা ঝুঁকিতে ছিল, তা তুলে ধরা হবে এই পরিবেশনায়। ওই ১২৬টি জেলার প্রায় ৫,০০০ বাসিন্দাকেও অনুষ্ঠান দেখতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তাঁরা ভাগ করে নেবেন।

'বন্দে মাতরম'-কে কেন্দ্র করেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

১৫০তম বছরে পা দেওয়া জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম'-কে কেন্দ্র করেই এবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে। প্যারেডে থাকছে মোট ১৫টি ট্যাবলো। একতা নগরে এই প্রথম একটি 'জনগণের ট্যাবলো'ও দেখা যাবে। এছাড়া প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গুজরাতে বসবাসকারী বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ নিয়ে আরেকটি বড় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হবে। প্রায় ৫,০০০ শিল্পীর এই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ রাজ্যের প্রায় ৫০টি সাংস্কৃতিক উপাদান তুলে ধরা হবে। এর মধ্য দিয়ে ভারতের বৈচিত্র্য এবং 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর চেতনা ফুটে উঠবে। প্যারেডের পর প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। মাদকবিরোধী দেশব্যাপী বাইক ব়্যালি এই অনুষ্ঠানের অংশ।

১৮২ মিটার উচ্চতার স্ট্যাচু অফ ইউনিটি বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মোদি এটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। স্বাধীনতার পর ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে এক সূত্রে বাঁধতে প্যাটেলের ভূমিকাকে স্মরণ করেই এই মূর্তি তৈরি। ৫৮ মিটার উঁচু ভিত্তির উপর দাঁড়ানো ব্রোঞ্জে মোড়া মূর্তির ১৫৩ মিটার উচ্চতায় একটি ভিউয়িং গ্যালারি আছে। সেখান থেকে সাতপুরা ও বিন্ধ্য পর্বতমালা এবং নীচে বয়ে চলা নর্মদা নদী দেখা যায়। প্রবল ভূমিকম্প এবং ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতির ঝড় সহ্য করার মতো করে এটি নির্মিত। মূর্তিতে প্যাটেলকে এক পা সামনে বাড়িয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখানো হয়েছে, যা অগ্রগতি ও দৃঢ়তার প্রতীক। প্যাটেলের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় একতা দিবস পালিত হয়।