মঙ্গলবার ক্যাথলিক চার্চের তিন কার্ডিনাল-এর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁদের সঙ্গে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে একটি টুইট করে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, সায়রো-মালাবার চার্চের মেজর আর্চবিশপ মার জর্জ কার্ডিনাল অ্যালেন্সারি, বম্বের আর্চবিশপ এবং সিবিসিআই-এর সভাপতি কার্ডিনাল অসওয়াল্ড গ্রেসাস এবং সিরো-মালঙ্কারা ক্যাথলিক চার্চের মেজর আর্চবিশপ-ক্যাথলিকোস কার্ডিনাল ক্লিমিস-এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। কার্ডিনালরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাত 'অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ' বলে জানিয়েছেন। মিজোরামের রাজ্যপাল পিএস শ্রীধরন পিল্লাই, কার্ডিনালদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই মতবিনিময় আয়োজন করেছিলেন।  

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই তিন নেতা আরও জানিয়েছেন, সরকার এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের কোনও রাজনৈতিক আলাপচারিতা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁদের বলেছেন, তাঁর কার্যালয়কে কার্ডিনালরা নিজেদের বাড়ি বলেই মনে করতে পারেন। যখন তখন তাঁর সঙ্গে আলোচনার জন্য সেখানে আসতে পারেন তাঁরা। শীর্ষ ক্যাথলিক যাজকদের সরকারের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা অত্যন্ত সতেজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁদের মতে অত্যন্ত ইতিবাচক, স্বচ্ছন্দ্য এবং তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন।

তাঁদের আলোচনায় আদিবাসী অধিকার কর্মী ফাদার স্ট্যান স্বামী-র গ্রেফতারির প্রসঙ্গও এসেছে বলে জানিয়েছেন কার্ডিনালরা। এই বিষযে প্রধানমন্ত্রী 'সহানুভূতি' দেখালেও তদন্তকারী সংস্থাদের কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করতে চায় না বলে জানিয়েছেন। এলগার পরিষদের সদস্যদের মাও যোগের মামলার অভিযুক্ত হিসাবে ফাদার স্বামী-কে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। গত বছরের ৮ অক্টোবর পার্কিনসন ডিজিস-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা ফাদার স্বামী কারাবন্দি।

এছাড়া খ্রিস্টান জগতের সর্বোচ্চ নেতা পোপকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই গির্জাগুলি আবেদন করে আসছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এদিন সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কার্ডিনাল আলেন্সারি এই বিষযে জানিয়েছেন পোপকে আমন্ত্রণ জানানোর 'উপযুক্ত সময়' খুঁজছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এছাড়া সংখ্যালঘু তহবিলের ন্যায্য বিতরণ এবং দলিত খ্রিস্টানদের সংরক্ষণের দাবির বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন কার্ডিনালরা। সেইসঙ্গে মোদীর সাথে কথোপকথনের সময়, তাঁরা পাহাড়ের পরিবেশগত দিক থেকে সংবেদনশীল অঞ্চলে মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাত এবং বিভিন্ন পরিবেশ আইনের বাস্তবায়নের ফলে কেরলের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সুউচ্চ অংশে বসবাসকারীদের সমস্যাও কথাও উত্থাপন করেন।