যেন কতদিনের চেনাশোনা তাঁদের। এরকমভাবেই শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে, কাঁধে খেলে বেড়ালো টিয়া পাখির দল। মাস্কের আড়াল থেকে প্রধানমন্ত্রীও কিছু বললেন তাদের উদ্দেশ্যে, তারাও দিল প্রত্যাশিত সাড়া। বরাবরই প্রকৃতির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর আত্মিক যোগাযোগের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে, সে বেয়ার গ্রিলস-এর সঙ্গে ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-তে হোক, কিংবা বাসভবনে ময়ূরদের সঙ্গে কাটানো সময়ের ভিডিওয়। শুক্রবার জদুদিনের সফরে গুজরাত এসে সর্দার প্যাটেল জুলজিক্যাল পার্কের উদ্বোধন করলেন তিনি। আর তারপরই ফের প্রকৃতির মাঝে পাওয়া গেল নরেন্দ্র দামোদরভাই মোদীকে।

নর্মদা জেলার কেভাদিয়ায় যেখানে স্ট্যাচু অব ইউনিটি তৈরি করা হয়েছে তার কাছেই এদিন তিনি প্রথমে একটি হার্বাল গার্ডেন অর্থাৎ ভেষজ গাছগাছরার উদ্যানের উদ্বোধন করেন তিনি। তারপর আসেন সর্দার প্যাটেল জুলজিক্যাল পার্কের উদ্বোধনে। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্দত্রী বিজয় রুপানি এবং গুজরাতের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত। উদ্বোধনের পর চিতাবাঘ ও বাঘের ছাপওয়ালা বিশেষ গাড়িতে করে তাঁদের পার্কের বিভিন্ন দিকে ঘুরতে দেখা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা থেকে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও পাখি এনে সংরক্ষণ করা হয়েছে গুজরাতের এই নবতম পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্রে। মাংসাসী, নিরামিশাসী প্রাণীদের, পাখিদের আলাদা আলাদা স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পোশাকি নাম সর্দার প্যাটেল জুলজিক্যাল পার্ক হলেও এই উদ্যানটি জঙ্গল সাফারি নামেই বেশি পরিচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে চিতাবাঘ ও বাঘের খাঁচার সামনে দেখা গিয়েছে। তবে তিনি দারুণভাবে মেতে উঠেছিলেন টিাপাখিদের সঙ্গে।

শুক্রবার গুজরাতের নর্মদা জেলায় 'আরোগ্য বন'এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৭ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই ভেষজ গাছপালার বাগানটি, স্ট্যাচু অব ইউনিটির একেবারে কাছেই তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যানে বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক গাছ-গাছরা এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। এই উদ্যানে শুধু যে আয়ুর্বেদকে উৎসাহ দেওয়া হয়, তাই নয়, ধ্যান, যোগ ব্যায়াম-এর মতো সুস্থ জীবন চর্চার আরও অন্যান্য বিষয়েও জোর দেওয়া হবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যানের ভ্রমণ করতেও দেখা গিয়েছে।