২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু তারপরেই চিত্রটা কেমন বদলে গিয়েছে। গত এক বছরে একাধিক রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে তেমন আশাপ্রদ ফল করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। তাই আসন্ন বিহার ও বাংলার ভোটের দিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপি। তাই বিহারীবাবুদের মন জয় করতে এবার কল্পতরু হলেন  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

আর কিছু সপ্তাহ পরেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। নীতিশ রাজ্যে ক্ষমতায় টিকে থাকাই এখান পাখির চোখ করেছে গেরুয়া শিবির। ভোটের দিকে নজর দিয়েই আগামী ১০ দিনে বাহিরবাসীর জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটেক নজরে রেখেই বৃহস্পতিবার বিহারে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধনী বক্তৃতা ভোজপুরি ভাষাতে শুরু করেছিলেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায় ১,৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনলাইন উদ্বোধন ইতিমধ্যেই করেছেন মোদী। তিন্তু লকডাউনে কাজ হারানো পরিযায়ী  শ্রমিকরা যে এখন গেরুয়া শিবির বিমুখ তা ভালো করেই জানেন মোদী। তাই বিহারী পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতে প্রলেপ দাওয়ার চেষ্টায় কোনও কসুর করছেন না তিনি।

 

 

নির্বাচনী বৈররিণী পার হতে গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযান বিহার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার তার সঙ্গেই যুক্ত হোল এক গুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা। আগামী ১০  দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন যা বিহারের মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি করবে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে  এলপিজি পাইপলাইন, এলপিজি বোতলজাতকরণ প্ল্যান্ট, নামামি গাঙ্গের আওতায় নর্দমা শোধন প্রকল্প, জল সরবরাহ প্রকল্প, নদী ফ্রন্ট উন্নয়ন প্রকল্প, নতুন রেলপথ, রেলব্রিজ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যুতায়ন, হাইওয়ে ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্র সঙ্গীতে প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে স্মরণ বাবুলের, ট্যুইটারে শেয়ার করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিহারে বিজেপি সূত্রে খবর, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিহারে প্রায় ১৬ হহাজার কোটি টাকার নয়া প্রকল্পের ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যা বিহারের ৩৮টির মধ্যে ২১টি জেলার মানুষদের সুবিধা দেবে। সূত্রের খবর, যে সমস্ত এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি, সেই জেলাগুলির জন্যই প্রকল্পগুলি বরাদ্দ করা হবে। 

রাজপুত ভোটের দিকে তাকিয়ে  অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যু  বিহার-ভোটের ‘বাজার গরমের’ চেষ্টা করে যাচ্ছে বিজেপি। কিন্তু রাজ্যে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভের কথাও বিলক্ষণ জানে গেরুয়া শিবির। তাই লকডাউনের জেরে কাজ খুইয়ে রাজ্যে ফিরতে বাধ্য হওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে বিজেপি। তার অংশ হিসাবেই তাই বৃহস্পতিবার  পশুপালক ও মৎস্যজীবিদের জন্য ই-গোপালা অ্যাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবারই মোট ৩০টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, করোনা মহামিরর মধ্যেও বিহারে বিধানসভা ভোট হবে নির্দিষ্ট সময়েই। নির্বাচনী বিধিনিষেধ জারির আগেই তাই প্রকল্প ঘোষণার কাজ সেরে ফেলতে চাইছেন মোদী সরকার। 

আরও পড়ুন: ফের নতুন রেকর্ড গড়ে দৈনিক সংক্রমণ লাখের দোড়গোড়ায়, ৪৫ লক্ষ ছাড়াল দেশে মোট করোনা আক্রান্ত

লালুর জমানায় পিছিয়ে থাকা বিহারকে নীতিশ কুমারের জোট  সরকার কী ভাবে বদলেছে, তা বারবার তুলে ধরছে বিজেপি । মোদী-নীতিশের পারস্পরিক প্রশংসাতেও বিজেপি-জেডিইউ জোটের মসৃণ একটা ছবি তুলে ধরার চেষ্টা চলছে বিহারে। তবে এর মধ্যেও বেসুরো বাজছে এনডিএ-র আরেক শরিক রামবিলাস পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি। বিহারের নির্বাচন যচ এগিয়ে আসছে ততই লোক জনশক্তি ও জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর মধ্যে অশান্তি ঘোরালো হচ্ছে। রামবিলাসের ছেলে চিরাগ পাসওয়ান মুখ্যমন্ত্রী নীতিশের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ শানাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনে জেডিইউ-এর সঙ্গে লোক জনশক্তি পার্টি আদৌ গাঁটছড়া বাঁধবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের কোন্দল সামলাতে  শুক্রবারই দু’দিনের জন্য বিহারে গিয়েছেন বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডা। করোনা আবহে দিল্লির বাইরে এই প্রথম পা রাখলেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন দলের তরফে বিহারের  দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস। আর এর মাঝেই উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে রাজ্যবাসীর মন জিততে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।