উত্তরপ্রদেশের এটাওয়ার ঘটনা বদলির প্রতিবাদে দৌড় পুলিশকর্মীর মাঝপথেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে যান তিনি পুলিশকর্মীকে উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা  

ইচ্ছের বিরুদ্ধে অনেক সময়ই সরকারি কর্মীদের বদলি হয়। কিন্তু চাকরি বাঁচানোর দায়ে সেই নির্দেশ মেনেও নিতে হয় অধিকাংশ কর্মীকে। কিন্তু উত্তর প্রদেশের এটাওয়া শহরের এক দারোগা অপছন্দের বদলির নির্দেশের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যে কাণ্ড ঘটালেন, তা কার্যত নজিরবিহীন। ষাট কিলোমিটার দূরে নিজের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওই দারোগা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য চল্লিশ কিলোমিটার দৌড়নোর পরেই সংজ্ঞা হারান তিনি। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিজয় প্রতাপ নামে ওই দারোগা এটাওয়া শহরের পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু কিছু দিন আগেই তাঁর বদলির নির্দেশ আসে। তাতে বিঠোলি থানায় যোগ দিতে বলা হয় ওই পুলিশকর্মীকে। কিন্তু ওই থানায় যোগ দিতে একেবারেই অনিচ্ছুক ছিলেন তরুণ এই পুলিশ অফিসার। কিন্তু তাঁর আপত্তি ধোঁপে টেকেনি। 

বদলির নির্দেশ মানতে হবে বুঝতে পেরেই অভিনব প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন বিজয় প্রতাপ। যে পুলিশ লাইনে তিনি কর্মরত ছিলেন, সেখান থেকে তাঁর নতুন কর্মস্থল বিঠোলি থানার ষাট কিলোমিটার। বিজয় প্রতাপ সিদ্ধান্ত নেন, দৌড়েই ওই পথ অতিক্রম করবেন তিনি। 

যেমন ভাবা, তেমন কাজ। এ দিন সকাল হতেই পুলিশের পোশাক পরে দৌড়তে শুরু করেন বিজয় প্রতাপ। প্রথমে রাস্তার লোকজন ভেবেছিলেন, হয়তো শরীর ফিট রাখতেই সকালবেলা দৌড়চ্ছেন পুলিশকর্মী। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, হয়তো বা কোনও অপরাধীকে ধাওয়া করেছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ওই পুলিশকর্মীকে দৌড়তে দেখে সন্দেহ হয় অনেকের। জানা যায়, বদলির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই দৌড় শুরু করেছেন তিনি। 

Scroll to load tweet…

শহরের ভিতরের রাস্তা ছেড়ে দৌড়তে দৌড়তে হাইওয়েতে ওঠেন ওই দারোগা। ধীরে ধীরে হাল ছাড়ছিল শরীর। কিন্তু জেদ ধরে দৌড়তে থাকেন বিজয় প্রসাদ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য লক্ষ্যে সফল হননি পুলিশকর্মী। প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দৌড়নোর চকরনগরের হনুমন্তপুরা নামে একটি এলাকায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে যান। 

পুলিশকর্মীর ওই অবস্থা দেখে স্থানীয় গ্রামবাসীরাই তাঁকে তুলে খাটে শোয়ান। তাঁর সেবা শুশ্রুষাও করেন গ্রামবাসীরা। ধীরে ধীরে জ্ঞান ফেরে বিজয় প্রতাপের। তখনই তিনি জানান, বিঠোনি থানায় আগেও কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু সেখানকার স্টেশন অফিসারের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা হয়েছিল। তাই আর ওই থানায় ফিরতে চান না তিনি। বদলে অন্য যে কোনও জায়গায় কাজে যোগ দিতে রাজি বলে জানান বিজয় প্রতাপ। গ্রামবাসীদের উদ্যোগেই ওই পুলিশ কর্মীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

পুলিশকর্মীর অভিযোগ, তাঁর কোনও কথাই শোনেনি ঊর্ধ্বতনরা। এর পরেই দৌড়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এলাকার পুলিশ কর্তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এসএসপি সন্তোষ কুমার মিশ্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্যই নেই।