নতুন তিনটি কৃষক প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লির উপকণ্ঠে গত ২৬ নভেম্বর থেকেই বিক্ষোভ অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। দীর্ঘ দুমাস তাঁদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ।  বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলি ছাড় অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কৃষকদের। তাঁরা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন কৃষক আন্দোলনের। কিন্তু বুধবার সাধারণতন্ত্র দিবসের দিনে কৃষক ট্র্যাক্টর প্যারেড ঘিরে যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে তা সবকিছুই ছাপিয়ে গেছে। যার জেরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কৃষকদের এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ। কারণ আগামী পয়লা ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের দিনে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী আন্নদাতারা। কিন্তু এদিন কৃষক আন্দোলনের যে ছবি গোটা দেশ দেখল তারপর আন্দোলনের প্রতি কতটা জনসমর্থন থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

 

দিল্লির কৃষকদের ট্র্যাক্টর ব়্যালিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দিল্লি পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কারণ এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই জড়ো হয়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় মিছিল করেছিলেন কৃষকরা। পুলিশ বাধা দিতে গেলে টিকরো, গাজিপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।  পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে ও ক্যাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। এছাড়া আর বড় কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রথম থেকে দিল্লি পুলিশ রক্ষণশীল ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র যশ সিঙ্গাল জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি জায়গায় আন্দোলনকারী হিংসাত্ম হয়ে যায়। সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করতে উদ্যোগ নেয় আন্দোলনকারীরা। তাদের রুখতে গিয়ে বেশ কয়েক জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। যেখানে শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন ছিল সেখানেই শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কাছে শান্তির আর্জি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের ফিরে যাওয়ার কথাও বলেছেন। দিল্লির জয়েন্ট কমিশনার অব পুলিশ অলোক কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্যাংগং-এ জমে যাওয়া লেকে জাতীয় পাতাকা নিয়ে প্যারেড, ছবিতে দেখুন ITBP-র প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন ..

'অসামাজিক উপাদান'এর জন্য অশান্তি, দিনের শেষে তাণ্ডবের দায় এড়াতেই কি এই তত্ত্ব আন্দোলনকারী কৃষকদের ...

অন্যদিকে দিল্লির কৃষক আন্দোলনে হিংসার ছবি সামনে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। তিনি বলেছেন এজাতীয় ঘটনা খুবই মর্মস্পর্শী। যা কৃষকদের এতদিনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে মোটেও খাপ খায় না। কৃষক নেতারা এই হিংসার ঘটনা থেকে নিজেদের পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন। তাঁরা ট্র্যাক্টর প্যারেড স্থগিত করে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।  একই সঙ্গে তিনি কৃষকদের অবিলম্বে দিল্লি  খালি করে সীমানায় ফিরে আসতে বলেছেন।