কেরলের বাজি ভরা আনারস খেয়ে গর্ভবতী হাতির মৃত্যু নিয়ে দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। বৃহস্পতিবার তিরুভিঝামকুন্নু বন বিভাগ থেকে হাতিটির প্রাথমিক পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে হাতিটির মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ বলা হয়েছে 'ডুবে যাওয়া এবং শ্বাসযন্ত্রে জল ঢুকে গিয়ে শ্বাস আটকে যাওয়া'।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অবশ্য এটাও বলা হয়েছে হাতিটির মুখের মধ্যে বিস্ফোরণের ফলেই সম্ভবত গুরুতর জখম তৈরি হয়েছিল যা থেকে পরে সেপসিস হয়ে গিয়েছিল। সেইসঙ্গে মুখ-গহ্বরের ওই মারাত্মক আঘাতের কারণে গর্ভবতী হাতিটি বেশ কয়েকদিন ধরে খাবার ও জল খেতে পারেনি। যার ফলে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

মলপ্পুরমের সাইলেন্ট ভ্যালি ফরেস্ট থেকে খাদ্যের সন্ধানে গর্ভবতী হাতিটি ওই বসতি এলাকায় চলে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে সে গ্রামের কোনও ক্ষতি করেনি। শুধুমাত্র পৈশাচিক মজার কারনেই স্থানীয়রা তার দিকে একটি বাজি ভর্তি আনারস এগিয়ে গিয়েছিল, যা খেতে যেতেই হাতিটির মুখের ভিতর বাজি ফেটে যায়। দিন কয়েক ওই মারাত্মক যন্ত্রনা নিয়ে গ্রামাঞ্চলেই ঘুরে বেড়ায় হাতিটি। গত ২৭ মে স্থানীয় ভেলিয়র নদীর জলে তাকে নিস্তেজভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। যে ঘটচনার ভিডিও ফুটেজ এখন ভাইরাল হয়েছে। হাতিটি ওই জলে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই মারা গিয়েছিল।

এই নক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করেছে গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় সরকারও এই ঘটনাকে মোটেই হাল্কাভাবে নেবে না বলে জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর তীব্র নিন্দা করে বলেছেন দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও কড়া সমালোচনা করেছেন এই ঘটনার। তিনি জানিয়েছেন এই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা গিয়েছে।