যে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তারাই স্থায়ী সরকার গড়ার পক্ষে জনমত পায় ঠিকই। কিন্তু যাঁরা তাদের পক্ষে ভোট দেয়নি, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে চলাটাও সেই সরকারেরই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এভাবেই নাম না করে মোদী সরকারকে খোঁচা দিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্য়ায়। দিল্লিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্মরণে দ্বিতীয় স্মারক বক্তৃতায় এমনই মন্তব্য করলেন প্রণব। 

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো কোথাও কোথাও সেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সোমবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা মানেই যা ইচ্ছে তাই করা যায় না। প্রণব মনে করিয়ে দিয়েছেন, যতবারই কোনও সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আমজনতার বিরুদ্ধাচারণ করেছে, প্রত্যেকবার পরবর্তী নির্বাচনে সেই ক্ষমতাসীন সরকারকে শাস্তি দিয়েছেন ভোটাররা। 

আরও পড়ুন- রাজধানী থেকে বাণিজ্যনগরী, নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে গোটা দেশ, ছবিতে দেখে নিন তৈরি হওয়া উত্তাল পরিস্থতি

আরও পড়ুন- বাথরুম-লাইব্রেরিতেও পুলিশ, বেধড়ক মার মেয়েদের, এফআইআর-এর রাস্তায় জামিয়া

প্রণব বলেন, 'দেশের ভোটাররা বারংবার শাসক দলকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তোমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার অর্থ হল যাঁরা তোমাদের পক্ষে ভোট দেননি, তাঁদেরকেও সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে, তাঁদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।' প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মনে করিয়ে দেন, ১৯৫১ সালের পর থেকে কোনও দলই ৫১ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। 

আক্ষেপের সঙ্গে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, 'দুর্ভাগ্যের বিষয় হল ভোটাররা কী বার্তা দিতে চাইছেন, রাজনৈতিক দলগুলি কোনওদিনই তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেনি। সেই কারণেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলেই আমরা মনে করি আইনসভায় যা খুশি তাই করা যায়। কিন্তু বাস্তবে তা হওয়া উচিত নয়।'

এই প্রসঙ্গেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর কথা স্মরণ করেন প্রণব। তাঁর কথায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিতেন বলেই প্রথম জোট সরকার হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছিলেন। সবার মতকে গুরুত্ব দিতেন বলেই কাশ্মীর সমস্যা সামলানো, পাকিস্তানের সঙ্গে কথা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বা পোখরানে দ্বিতীয় পরমাণু বোমা পরীক্ষা করতে বাজপেয়ী সফল হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন প্রণব।

এর পাশাপাশি প্রণব মুখোপাধ্যায় মনে করেন, লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ১০০০ করা উচিত। সেই অনুপাতে বাড়ানো উচিত রাজ্যসভার সংখ্যাও। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মনে করেন জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যার বিচারে নির্বাচকমণ্ডলীর সংখ্যা অনেকটাই বেশি।