সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজের পড়ুয়া ছিলেন। তারপরেরে পড়ুশুনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-- প্রথমে ইতিহাস আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র থাকলেও পরবর্তীকালে আইনের ডিগ্রিও অর্জন করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বেশিদিন শিক্ষকতার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি প্রণব মুখোপাধ্যায়। জাতীয় রাজনীতিতে দাপটের সঙ্গে বিচরণ করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ইন্দিরা গান্ধী থেকে রাজীব গান্ধী হয়ে সনিয়া গান্ধীর অত্যন্ত ভরসার পাত্র ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। পরবর্তী কালে মনমোহন সিংএরও ভরসা আর্জন করেছিলেন তিনি। 


২০০৪ সালে মনমোহন সিং কে যখন দিল্লির মসনদে বসিয়েছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন এই বাঙালী রাজনীতিবিদ। জ্যোতি বসুর পর প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হবেন এমনটাই আশা করেছিল বাংলার মানুষ। দলমত নির্বিশেষেই সেই আশা বাড়তে শুরু করেছিল। তিন্তু সেই সময় বাঙালির আশা ভেঙে যায় মনমোহন সিং-এর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা শুনে। কিন্তু তারপর নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কোনও বিদ্রোহ করেননি। উল্টে হাইকমান্ডের দেওয়া দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করেছিলেন তিনি। 

রাজনৈতির বিশেজ্ঞরা মনে করেছিল মনমোহন সিংএর সঙ্গে বিরোধ বাঁধবে প্রণব মুখোপাধ্যায়। কিন্তু সেই জল্পনায় রীতিমত ছাই ফেলেছিলেন দুই রাজনীতিবিদ। ২০১৭ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা বই 'দ্যা কোয়ালিশন ইয়ার্স ' উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর থেকে অনেক বেশি যোগ্য প্রণব মুখোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নর্থব্লকে প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর সবথেকে পুরনো ও পরিচিত সহকর্মী। তিনি আরও বলেছিলেন সনিয়া গান্ধী যখন তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তখন সেটা না বলার মত ক্ষমতা ছিল না তাঁর। আর সেই অনুষ্ঠানে দর্শনের আসনে বসে ছিলেন সেই তৎকালীন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া ও তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী। 

প্রণব মুখোপাধ্যায়ও ওই বইতে তার রাজনীতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জোট সরকার চালানোর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়ে ছিলেন পাঠকের সঙ্গে। সেই বইতেই প্রণব ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দিল্লির জোট সরকারের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর সেই বইতেই প্রণব মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন ২০০৪ সালে সনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করতে অস্বীকার করার পর তিনিই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্ভবত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী মনোনিত হওয়ার পর তিনি মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। সেই সময় সনিয়া গান্ধী তাঁকে মন্ত্রীত্ব গ্রহণের জন্য রাজি করিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন সেই সময় খুব দ্রুত তাঁদের সম্পর্কের উন্নতি হয়। যা তাঁর আমলে উন্নয়নের গতিপথ অবাধ করেছিল। পাশাপাশি তিনি বলেন ভারতীয় রাজনীতিতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা চিরকাল স্মরনীয় হয়ে থাকবে।