চিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মহামারীর রূপ নিয়েছে।বিশ্বজুড়ে এই রোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সেই করোনাভাইরাসের সঙ্গেই প্রশান্ত কিশোরের তুলনা করলেন এক জেডিইউ নেতা।দলের সঙ্গে দলের সহ-সভাপতির দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। 

জনতা দল ইউনাইটেড-এ ক্রমেই স্বয়ং তাদের সহ-সভাপতি প্রশান্ত কিশোর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রাজনৈতিক পরামর্শদাতার সঙ্গে নীতিশ কুমার-এর প্রকাশ্যেই বিরোধ বেধেছে। কাজেই তাঁর প্রতি যে জেডি (ইউ)-এর অন্যান্য নেতারাও মুখ খুলবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে, জেডিইউ নেতা অজয় অলোক তাঁকে একেবারে 'দলের করোনভাইরাস' বলবেন, এতটা হয়তো কেউই আশা করেননি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভারতের প্রতিবেশী দেশ চিনে বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বজুড়ে এই রোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রাণঘাতি ভাইরাসসের সঙ্গেই দলের সহ-সভাপতির তুলনা করলেন জেডিইউ নেতা।

ভাঙনের শুরুটা অনেকদিন হলেও সাম্প্রতিক ফাটলটা দেখা দিয়েছিল নীতীশ কুমারের মন্তব্য থেকে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ প্রধান দাবি করেন, বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সুপারিশেই জেডি (ইউ) দলে নেওয়া হয়েছিল প্রশান্ত কিশোর-কে।

মঙ্গলবার প্রকাশ্য়েই এর পাল্টা জবাব দেন প্রশান্ত কিশোর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, নীতীশকুমার তাঁর জেডিইউতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছেন। তাঁর দাবি নীতিশই তাঁকে দলে নিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, কথাটি সত্যি হলে বলতে হবে, অমিত শাহ কোনও কথা বললে তা প্রত্যাখ্যান করার মতো নীতিশের সাহস নেই।

Scroll to load tweet…

এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জেডি (উ) নেতা অজয় অলোক বলেন, প্রশান্ত কিশোর মোটেই বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি নন। নরেন্দ্র মোদী এবং নীতীশ কুমারের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। তাঁর আপ, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে যোগাযোগের জন্যই কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে না। এরপরই তিনি বলেন 'এই করোন ভাইরাস যে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে তাতে আমরা খুশি। তিনি যেখানে খুশি যেতে পারেন'।

Scroll to load tweet…

কিন্তু প্রশান্ত কিশোর-কে নিয়ে জেডি (ইউ) নেতাদের এত গাত্রদাহের কারণ কী? প্রথমত, প্রশান্ত কিশোর কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের সোচ্চার সমালোচক। সেই সঙ্গে তাঁর মতে জেডি (ইউ) দলের আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সহযোগী দল বিজেপি-র তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। এছাড়া নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে প্রশান্ত কিশোর, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আপ-কে দিল্লিতে ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ে সহায়তা করছেন। মমতাকেও বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

এই বিষয়গুলিই তাঁর দল পছন্দ করছে না। তাদের সহযোগী বিজেপি তো নয়ই। জোটসঙ্গীদের তরফ থেকেও নীতিশের উপর চাপ এসে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।