একবারও নাম করেননি। কিন্তু 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর গুরুত্ব স্পষ্ট করতে গিয়েই সূক্ষ্মভাবে চিনের সম্প্রসারণবাদী অর্থনীতির সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এমনটাই বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সম্মেলনে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী আসনের জন্য দরবার করা, আন্তর্জাতিক সংগঠনটির সংস্কারের দাবি এবং ভ্য়াকসিন প্রস্তুত ও বিতরণে সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভারত সরকার-এর 'আত্মনির্ভর ভারত' প্রচারের গুরুত্বও ব্যাখ্যা করেন।
 
প্রধানমন্ত্রী জানান, কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে যে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা থেকে মুক্তির জন্য ভারত 'আত্মনির্ভর ভারত' গড়ার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয় মাথায় রেখেই এই প্রচার গ্রহণ করা হলেও 'আত্মনির্ভর ভারত' চিনের মতো অর্থনৈতিক দাদাগিরির পথে হাঁটবে না। বরং আত্মনির্ভর ভারত অভিযান বিশ্বের অর্থনীতির হাত মজবুত করবে।

তবে শুধু চিনকেই নয়, এদিনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানের জন্যও সূক্ষ্ম বার্তা পাঠিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জানান, ভারত যখন দুর্বল ছিল তখনও কখনই বিশ্বের সামনে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়নি। মনে করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের নিশানা ছিল পাকিস্তানই। দুর্বল অর্থনীতির দেশ পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের যে বোঝা বিশ্বের উপর চাপিয়ে দিয়েছে সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, তিনি রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের দাবিও তোলেন। সন্ত্রাসবাদ ধ্বস্ত পৃথিবীতে এই আন্তর্জাতিক সংস্থার বর্তমান কার্যপন্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মোদী।