নরেন্দ্র মোদী, বঙ্গন্ধুর জীবন আর সংগ্রাম গল্পকথার থেকে কম ছিল না। নিপীড়ন বর্বরতা মুখোমুখি তিনি সর্বদাই দাঁড়াতে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেশা ছিলেন তাঁর সমস্ত শক্তির উৎস। যাইহোক, আমরা যখন তাঁর 'অসমাপ্ত স্মৃতিকথা' পড়ি  তখনই দেখতে পাই গোটা পরিবারকেই তিনি ঝুঁকি সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাতে দ্বিধাবোধ করেননি। বঙ্গবন্ধুর জবাব সহজ ছিল- তাঁর সামনে আর অন্য রাস্তা ছিল না। 

তাঁর লক্ষ্য এই অবিস্মরণীয় প্রতদিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও তিনি যে সমস্ত অত্যাচার সহ্য করেছিলেন তারপরেও বঙ্গবন্ধুর চেতনা, উদারতা বজায় রাখতে পেরেছিলেন, যা মহানত্বের চিহ্ন। ন্যায়পরায়ণতা, সাম্যতা ও অন্তর্ভুক্তিতে তাঁর প্রগতিশীল বিশ্বাস ১৯৫০ এর দশকে তিনি যে কথা লিখেছিলেন  তাতে ধরা পড়েছে, 'আমার থেকে ভিন্ন মতামত পোষণ করে বা ভিন্ন আদর্শে বিশ্বাসী এজাতীয় মানুষকে হত্যা করা ঠিন নয়- এটাই আমি জানি।'

তাঁর নিজস্ব আদর্শের প্রতি গভীর বিশ্বাস ছিল । যার জন্য তিনি অন্যের মতামতকে খুবই সহজে গ্রহণ করতে পারতেন। যা বঙ্গবন্ধুকে আমাদের সময়ের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক করে তুলেছিল। ভারতের জনগণও বঙ্গবন্ধুতকে শ্রদ্ধা করত। তাঁর চেহারা যেমন দীর্ঘ ছিল তেমনই দীর্ঘমনের ও মাপের নেতা ছিলেন তিনি। সামাজিক বিভাজন আর সীমারেখার উর্ধ্বে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন তিনি। সেই কারণেই আমরা আমাদের বাংলাদেশী বোন ও ভাইদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি উদযাপনে বিশেষ মুজিব বর্ষতে যোগদান করেছি। 

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রামকে আমরা যখন ফিরে দেখি তখন আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করি আমাদের তাঁরে যদি না হত্যা করা হত উপমহাদেশ আর ঠিক কী কী দেখতে পেত? 

কে কী হতে পারত? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। তবে স্বাধীন বাংলেদেশের তাঁর চার বছরের শাসনকাল দেখলে বোঝা যায় তিনি কতটা উচ্চমানের শাসক ছিলেন। 

এটি একটি নিরাপদ বাজি যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে থাকাকালীন বাংলাদেশে ও আমাদের এক অন্যরকম চলার পথ বিকশিত করেছিল। 

একটি সার্বভৌম আত্মবিশ্বাসী বাংদেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিতে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে উদ্যোগী হয়েছিল। কারও প্রতি ঘৃণা প্রকাশ দূরে সরিয়ে রেখেছিল। যুদ্ধের বেদনাদায়ক স্মৃতি ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছিল। 

এটি যদি অব্যাহত থাকত তবে  সম্ভবত ভারত ও বাংলাদেশের বহু দশক আগে অনেকটা সাফল্য অর্জন করত। বর্তমানে দুটি দেশসেই পথই অনুসরণ করছে। 

উদাহরণস্বরূপ ভারত ও বাংলাদেশ অবশেষে ২০১৫সালের স্থলসীমা চুক্তির মাধ্যমে ইতিহাসের জটিলতাগুলি কাটিয়ে উটতে সক্ষম হয়েছিল। আধুনিক দেশ-রাষ্ট্রগুলির ইতিবাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। তবে বঙ্গবন্ধু যদি আরও গীর্ঘকাল অধিষ্ঠিত থাকতেন তবে এই সাফল্য় অনেক আগেই এসে যেত। তেমন যদিহত তাহলে আনাদের সহযোগিতা, উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ও ভাগাভাগি সুরক্ষাকে সঙ্গে করে একসঙ্গে একটি আলাদা কক্ষপথে পৌঁছে যাওয়া যেত। 

এটি অবাস্তব মনে হতে পারে, তবে কেবল অন্য কোথাও উদাহরণগুলি দেখতে হবে। শতাব্দীর দ্বন্দ্বের ফরে ইউরোপ বিস্মিত হয়েছিল, তবে সমৃদ্ধ ও ভাগাভাগি ভবিষ্যতে অংশে নেওয়ার জন্য তার জনগণতে একত্রিত করতে অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছে। কিছুটা মিল এশিয়ার সঙ্গেও রয়েছে। 

আমি নিশ্চিত যে তাঁর দূরদর্শী বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বঙ্গবন্ধু আনাদের উপমহাদেশের জন্য আরও বড় কিছু স্বপ্ন দেখার সাহয় করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের উজ্জীবিত করে এবং বঙ্গবন্ধুকে পথনির্দেশক তারকা হিসেবে নিয়ে এই অঞ্চলটি অন্তত বঙ্গোপসাগর অঞ্চলটি সম্ভবত অন্যরকম বাস্তবে পরিণত হতে পারে। 

আমরা হালকা শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, প্রযুক্তি পণ্যগুলিকে উন্নত উপকরণগুলিতে খাদ্য প্পসেসিংয়ে গভীরভাবে অন্তঃসংযোজযুক্ত মান চেইনগুলির সঙ্গে েকটিসগনিষ্টভাবে সংহত অর্থনৈতিকনীতিক, বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত সুবিধাকে সর্বাধিক করে তোলার জন্য অন্তঃসরকারি কাঠামো তৈরি করতে পারতাম। আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আবহাওয়া সমুদ্র, ভূতাত্ত্বিক তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারতাম। আমাদের অঞ্চলগুলিকে প্রাকৃতিক বিপর্যের প্রভাব থেকে বাঁচাতে পারি।

বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশে দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটাতে আমরা মৎসজীবী থেকে শুরু করে উপকূলীয় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে একসঙ্গে কাজ করতে পারতামষ আমরা বঙ্গোপসাগর পরিবহন ও লজিস্টিক কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে সমন্বিত রাস্তাঘাট, নদী যোগাযোগ, নদীবন্দর বিমানবন্দরগুলির সংযোগ স্থাপন করা রেলপথ, বন্দরকে সংযুক্ত করে একটি  মাল্টিমোডাল সংযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করা যেতে পারে। উন্নতমানের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমানা জুড়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া  চলাকালীন পণ্যগুলি দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যেতে পারে। 

সর্বোপরি এমন একটি দৃশ্য কল্পনা করুণ যেখানে আমাদের লোকেরা এই উপমহাদেশে অধ্যায়ন করতে কাজ করতে অনায়াসে ব্যবসা করতে পারে। তরুণরা তাদের চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। নতুনত্বের সন্ধান করে তারা উগ্রবাদ, হিংস্রতা বিদ্বেষের বিষাক্ত প্রবেশের বিরুদ্ধে একটি সবচেয়ে প্রাকৃতিক ভ্যাকসিন হত। 

১৯৭৫ সালের অগস্টের মর্মানিত্র শুক্রবূার সকাল না হলে আমরা বাস করতে সেই সোলানি দিনে। বাংলাদেশের পিতার হত্যাকাণ্ডের সেই অঞ্চলের ভাগ্যকে বঞ্চিত করেছিল যা আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের পরিবেশ আরও জোরাল হতে পারত। 

এবং আজ তবুই নতুন উদীয়মান বাংলাদেশের এই ভোরবেলায় দেখে বিশ্ববাস করা সম্ভব যে এই ভবিষ্যত আরও একবার আমাদের আঁকড়ে ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সক্ষম নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু স্বপ্নকে ক্রমন্বয় বাস্তবায়িত করেছে। আমাদের অংশীদারিত্বের জন্য আরও সাহসী উচ্চাভিলাযী হওয়ার সময় এসেছে। যেমনটা চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

আমাদের উত্তেজনাপূর্ণ সাম্প্রতিক যাত্রা আমাকে আশা দেয়। ভালো প্রতিবেশীর চেতনায় আমরা জটিল বিষয়গুলি নিয়ে মাতামাতিপূর্ণভাবে সমাধান করেছিল। আমাদের স্থল ও সমুদ্রসীমা স্থির হয়ে আছে। মানুষের প্রচেষ্টায় প্রায় সকল দিকই আমারা একে অপরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। জনগণের সঙ্গেও আমারা সবকাজে মতবিনিময় করে থাকি। 

আমরা সংযোগের ক্ষেত্রেও ভালো অগ্রগতি করেছি। বাংলাদেশ থেকে কার্গো ভারতের মাধ্যমে নেপাল ও ভূটানে যাতে পারে। আমরা বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পৌঁছানোর জন্য় ভারতীয় পণ্য পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে নৌপথ চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বজরাগুলির জন্য বারানসী-সাহিবগঞ্জে যাতায়াতের পথ তৈরি করা হচ্ছে। রেলপথের মাধ্যমে কার্গো ও পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি একটি পদক্ষেপ যা উভয়দেশেরই উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ভারত আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। সেই কারণেই একাধিক কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। 

ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় এই বছরটিতে  ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের কারণে আগরতলা রেলপথে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পেরর কাজ শেষের দিকে রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত মজবুত হয়ে ব্যবসাতেও উন্নতি হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তা আরও এগিয়ে যাচ্ছে বলেই আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। 

বঙ্গবন্ধু ও লক্ষ লক্ষ দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী ও প্রকৃতপক্ষে কয়েক হাজার ভারতীয় তাদের সমস্তকিছু দিয়েছিল বলে বর্তমানে দুই দেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

আমি বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপনে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত। ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা ও আমি বঙ্গবন্ধুর দ্বারা স্থির করা আদর্শ আর দৃষ্টিভঙ্গি স্মরণ করব। আমি তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। 

জয় বাংলা, জয় হিন্দ, বঙ্গবন্ধুর চেতনা আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে চিরকালের জন্য অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলুক।