এ এমন এক শূন্যতা যা সম্ভবত আর কখনও পূরণ হবে না। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা লোক জনশক্তি পার্টির নেতা রামবিলাস পাসওয়ানের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিভিন্ন রকমের অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে গত শনিবারই একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এদিন ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মন্ত্রিসভার এই বর্ষীয়ান সহকর্মীর মৃত্য়তে তিনটি টুইট করে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি জানান সমবেদনা।

তিনি জানান, শোক প্রকাশের কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। রামবিলাসের মৃত্যুতে যেমন একদিনে দেশে একটি অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তেমনই এটা তাঁর একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দলিত নেতাকে মোদী তাঁর একজন বন্ধু, মূল্যবান সহকর্মী বলে জানিয়েছেন। দরিদ্র মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করাটাই তাঁর লক্ষ্য ছিল বলে জানান তিনি।

বিহারের এক দলিত নেতা থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসার পিছনে রামবিলাস পাসওয়ান-এর কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্পের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বলেন তরুণ নেতা হিসাবে জরুরী সময়ে রাষ্ট্রীয় অত্যাচার এবং গণতন্ত্রের উপর আঘাত প্রতিহত করতে রামবিলাসের ভূমিকার কথাও। সেইসঙ্গে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে সাংসদ এবং ও মন্ত্রী হিসাবে রামবিলাস পাসওয়ানের অসামান্য অবদানের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার 'অবিশ্বাস্য' অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন নরেন্দ্র মোদী। জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে তাঁর অন্তর্দৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যেত। বোঝা যেত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জাতীয়তা থেকে শুরু করে শাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কতটা উজ্জ্বল জ্ঞানের অধিকারী।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ রামবিলাস পাসওয়ানকে একজন 'স্বপ্নদর্শী নেতা' অভিহিত করেছেন। নিপীড়িতদের কণ্ঠস্বর, এবং প্রান্তিক মানুষদের কতা তুলে ধরতেন তিনি। সেইসঙ্গে পাসওয়ানের যুব বয়সের তেজের কথাও বলেছেন দেশের প্রথম দলিত রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জরুরি সময় বিরোধী আন্দোলনের সময় জয়প্রকাশ নারায়ণের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন রামবিলাস পাসওয়ান। জনসাধারণের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অন্যান্য রাজনীতিবিদদের কাছে ঈর্ষণীয় ছিল। পাসওয়ানের পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি কোভিন্দ।