গান্ধী পরিবারের স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের নিরাপত্তা সরিয়ে নিয়েছে মোদী সরকার। আর তারপরই গুরুতর সুরক্ষা লঙ্ঘনের শিকার হলেন কংগ্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। গত ২৬ নভেম্বর পাঁচ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি একটি গাড়ি নিয়ে আচমকা তাঁর বাসভবনে ঢুকে পড়েছিল বলে সিআরপিএফ-এর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

এসপিজি সুরক্ষার বলয় তুলে নেওয়া হলেও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখনও তাঁর জেড-প্লাস ক্যাটেগরির সুরক্ষা পান। তা ভেদ করেই ওই পাঁচজন একটি গাড়ি নিয়ে প্রিয়াঙ্কার কাছে পৌঁছে গিয়েোছিলেন বলে সোমবার অভিযোগ করা হয়েছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কার্যালয় থেকে। জানা গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কার কাছে এসে তাঁর কাছে সেলফি তোলার আবদার জানান। সুত্রের খবর এর জন্য কাদের তরফে গাফিলতি রয়েছে তা নিয়ে দিল্লি পুলিশ ও   সিআরপিএফ-এর মধ্যে দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপ শুরু হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা, তাঁর ভাই রাহুল এবং মা সনিয়া গান্ধী গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এসপিজির ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের জেড প্লাস সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। জেড-প্লাস সুরক্ষা বলয়ে সিআরপিএফ-এর আধাসেনাবাহিনীর কমান্ডোদের ঘরে ও বাইরে তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা।

১৯৮৪ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীকে তাঁরই নিরাপত্তারক্ষীরা হত্যা করার পর, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার জন্য আলাদা বাহিনী গঠনের কথা ভাবা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালের এসপিজি আইনে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরই এই বিশেষ সুরক্ষা পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যার পরই আইনটি সংশোধন করে তাঁর নিকটাত্মীয় হিসেবে সনিয়া গান্ধী এবং তাঁর সন্তানদের এসপিজি সুরক্ষা দেওয়া হয়। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার আইনের সেই সংশোধনীটুকু ছেঁটে ফেলেছে।  

এদিন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নিরাপত্তা বলয় লঙ্ঘন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি জানিয়েছেন, তিনি লোকসভায় ছিলেন। কাজেই প্রিয়াঙ্কার অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না। কার্যালয়ে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।