অবশেষে একমাসের বেশি সময় ধরে চলা বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্য়ালয়ের প্রতিবাদ বিক্ষোভের অবসান ঘটল। সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম বিজ্ঞান বিভাগ-এর সহকারী অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরোজ খান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ছেন না তিনি। সাহিত্য বিভাগ ছেড়ে তিনি যোগ দিলেন শিল্প বিভাগে। নতুন করে পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গত ৬ নভেম্বর বিএইচইউ-এর সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম বিজ্ঞান বিভাগ-এ নিযুক্ত হয়েছিলেন মুসলিম প্রফেসর ফিরোজ খান। আর তার পরের দিন থেকেই কেন একজন মুসলিম সংস্কৃত পড়াবেন, এই অযৌক্তিক দাবি নিয়ে বিক্ষোভ আন্দোলনে নেমেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ। গত একমাস ধরে এই অচলাবস্থা চলার পর সোমবার রাতে এলডি গেস্ট হাউসে এক বৈঠকে বসেন ফিরোজ খান-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। সেখানেই সাহিত্য় বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেন ফিরোজ খান। একইসঙ্গে সংস্কৃত শিল্প বিভাগে যোগ দেন তিনি।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তারপরেও শিক্ষার্থীরা তাদের বিক্ষোভ  চালিয়ে যান। তাঁদের দাবি ছিল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে এই তথ্য জানাতে হবে। এদিন বিকেলে বিক্ষোভকারীদের সামনে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডিন সংস্কৃত বিদ্য়া ধর্ম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পিরোজ খানের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানান। এরপরই আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে মঙ্গবলবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সেমেস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, আন্দোলনের জেরে সেই সূচি বাতিল করতে হয়েছে। আন্দোলন শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এখন নতুন করে পরীক্ষার সূচি তৈরি করছে। এক-দুই দিনের মধ্য়েই নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে। এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি পিরোজ খান। তাই এই বিষয়ে তাঁর মতামত জানা যায়নি।