সোমবারই লোকসভায় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৯ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার বিলটি পেশ হচ্ছে রাজ্যসভায়। এই বিলের বিরোধিতায় নতুন করে অশান্তি ছড়ালো উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে। বিজেপি শাসিত অসম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ সিএবি বিরোধী বিক্ষোভ আন্দোলনে উত্তাল হল। এর জেরে ৪৮ ঘন্টার জন্য ত্রিপুরায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হল।

এদিন উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির ছাত্রসংঠনগুলির যৌথ মঞ্চ, নর্থইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন ১১ ঘন্টার বনধ-এর ডাক দিয়েছিল। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব অব্শ্য দাবি করেছিলেন তাঁর রাজ্যে এই বনধের প্রভাব পড়বে না। কিন্তু তা ভুল প্রমাণ করে এদিন মহিলাসহ বহু মানুষ রাস্তায় নামেন। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আগরতলায় পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, মনু ও কাঞ্চনপুর এলাকায় আদিবাসী ও অনাদিবাসীদের মধ্যে ঝামেলার খবরের গুজব রটানো হচ্ছে। এর ফলে ওই এলাকাগুলিতে হিংসা ছড়াচ্ছে। এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ এবং সোশ্য়াল মিডিয়ার মাধ্যমে ভূয়ো ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। এতে করে রাজ্যজুডড়ে হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় মোবাইল ইন্টারনেচ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।   
 
এদিন ত্রিপুরার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বের সবকটি রাজ্যেই কমবেশি প্রভাব পড়েছে বনধের। হর্নবিল উৎসব চলায় বন্ধের আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছিল নাগাল্যান্ড-কে। তবে ঝামেলার আশঙ্কায় আগে থেকেই অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও বিক্ষিপ্তভাবে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লেন বন্ধ সমর্থকরা।

অসমে, যে রাজ্যে ইতিমধ্য়েই এনআরসি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানেই সবচেয়ে বেশি বন্ধের প্রভাব দেখা গেল। গুয়াহাটি থেকে ডিব্রুগড় সর্বত্রই শুনশান ছিল রাস্তাঘাট। মূলত ছাত্রসংগঠনের ডাকা বনধ হলেও তাদের সমর্থন জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠনও।

রাজ্যের সেক্রেটারিয়েট ভবন ও বিধানসভা ভবনের কাছে নিরাপত্তাকর্মীদের সহ্গে সংঘর্ষে জড়ান বনধ সমর্থনকারীরা। গুয়াহাটির রাস্তায় টায়ারও জ্বালিয়ে দেন বনধ সমর্থনকারীরা। গোটা রাজ্যে ট্রেন পরিষোবাও ব্যহত হয়।  

অরুণাচল প্রদেশেও অরুণাচলপ্রদেশ স্টুডেন্ট্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে বিকাল চারটে  পর্যন্ত বন্ধের দারুণ প্রভাব দেখা গেল। দোকানপাট ছিল বন্ধ, রাস্তাঘাটে গাড়িঘোড়াও প্রায় ছিল না বললেই চলে।