দীপাবলিতে মাতোয়ারা সারা দেশ। ঠিক তার মাঝখানে তিরুচিরাপল্লির ছোট্ট সুজিতের মৃত্যু যেন এক নিমেষে সমস্ত আনন্দ কেড়ে নিল। তামিলনাড়ুর এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা সুজিতকে গভীর কুয়োয় পড়ে যায়। তিন দিন পর উদ্ধার তো হল, কিন্তু সেখানে সুজিত ছিল না। সুজিতের পচা গলা দেহ।  কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা ও রাজ্য বিপযর্য় মোকাবিলা বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে ছোট্ট সুজিতকে বাঁচনো গেল। দুই বছরের ছোট্ট শিশুর যখন আধো আধো কথা বলে মায়ের গলা জড়িয়ে আদর খাওয়ার কথা, যখন টলমল পায়ে বাড়ি মাথায় করে রাখার কথা, যে শিশু মাকে ছাড়া একদণ্ড কল্পনা করতে পারে না, তখন তাকে অন্ধকার গভীয় কুয়োয় একা একা থাকতে হয়েছে। ভয়ে জড়িয়ে ধরার জন্য মায়ের আঁচল টুকু পায়নি। কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে সে জানে না। আবার ঘুম থেকে উঠে কাঁদতে শুরু করেছে। আর এই ভাবে কখন যে মত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে কেউ জানে না।  বাইরে তখন তার পরিবারের পাশাপাশি সারা দেশ আশায় বুক বেঁধে রেখেছে, দীপাবলির সময়  ছোট্ট সুজিতকে ঠিক উদ্ধার করা যাবে। দীবাবলির জৌলুসে অন্ধকার করে এল দুই বছরের সুজিতের মৃত্যুর খবর। 

 

ভেঙে পড়েছে সারা ভারতের মন। টুইটারে হ্যাশ ট্যাগ সরি উই মিস ইউতে ভরে গিয়েছে একের পর টুইট। কেউ সেখানে সুজিতের মৃত্যুতে বুকের মধ্যে দম বন্ধ করা কষ্টের কথা বলেছেন, তো কেউ সেখানে প্রশাসনের ওপর নিজের রাগ, নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কেউ আবার ছোট্ট সুজিতের খেলা করার কিছু ভিডিও পোস্ট করেছেন।  এক ব্যক্তি টুইটারে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, আমরা চাঁদে পৌঁছে যাচ্ছি, আমরা মঙ্গলে পৌঁছে যাচ্ছি। কিন্তু দুই বছরের ছোট্ট সুজিতকে আমরা বাঁচাতে পারছি না।  কেউ আবার নিজের রাগ উগড়ে দিয়ে টুইটারে পোস্ট করেছেন, আমরা  সাংসদ, বিধায়ক কেনার জন্য পয়সা খরচ করতে পারি। সুজিতের মতো যারা কুয়োয় পড়ে যায়, তাদের জন্য আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কোনও যন্ত্র কিনতে পারি না। 

 

জৈনক ব্যক্তি  টুইট করেছেন, যখন সুজিথের ছোট্ট দেহটা বের করে আনা হচ্ছে, চোখ ভিজে আসছিল। এদের জন্য সত্যি কি আমরা কিছু করতে পারি না।  প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ জানিয়ে সংযুক্তা রায় নামের এক মহিলা টুইটারে লিখেছেন, প্রশাসন সজাগ হলে আমরা কী সুজিতের মতো মিষ্টি মিষ্টি  শিশুদের বাঁচাতে পারি না। ছোট্ট সুজিত, তোমাকে আমরা কোনওদিন ভুলব না। তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন অরুণ নামের এক ব্যক্তি । সেখানে ছোট্ট সুজিতকে তার মায়ের পিছু পিছু হাঁটতে দেখা যায়। মাকে নকল করে কয়েকটা গাছ মাথায় নিয়ে টলমল পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ার পর রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।