২০১২ সালে নির্ভয়া কাণ্ডের পর এই ছবি দেখেছিল দিল্লি। হায়দরাবাদ এবং উন্নাওয়ে পর পর দুই নির্যাতিতাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর ফের জনরোষ আছড়ে পড়ল রাজধানীর পথে। কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা নিয়ে নয়, বাড়তে থাকা ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা নিয়ে পথে নামল আমজনতা। বিক্ষোভ সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেল পুলিশ। 

হায়দরাবাদে পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ এবং পুড়িয়ে হত্যার পর এমনিতেই সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জন্মেছিল। এর পর শুক্রবার গভীর রাতে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার মৃত্যুর পর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। এ দিন বিকেল রাজ ঘাট থেকে ইন্ডিয়া গেটের দিকে রওনা দেয় প্রতিবাদ মিছিল। প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান হাজার হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন- 'ধর্ষণ হলে তখন দেখা যাবে', ফের কাঠগড়ায় উন্নাও পুলিশ

আরও পড়ুন- বিচারের নামে প্রতিশোধ নয়, এনকাউন্টার বিতর্কের মধ্যেই মন্তব্য প্রধান বিচারপতির

মিছিল ইন্ডিয়া গেটের কাছে আসতেই ব্যারিকেড করে তা আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। যদিও পুলিশের বাধা অতিক্রম করেই মিছিল এগিয়ে যায়। ভেঙে যায় ব্যারিকেড। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় আমজনতার। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হয়ে জল কামান ছোড়ে পুলিশ। যদিও তাতেও বিশেষ দমানো যায়নি জনতাকে। 

এ দিনের মিছিলে প্রবীণ নাগরিকদের যেমন দেখা গিয়েছে, তেমনই দেখা গিয়েছে যুব সমাজকেও। প্রত্যেকের মুখে একটাই দাবি ছিল, দ্রুত বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে ধর্ষকদের। একই সঙ্গে নির্ভয়া কাণ্ডের সময় যে বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদদের পথে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে জনতা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নির্ভয়া কাণ্ডের সময় পথে নামা অন্না হাজারে, বাবা রামদেব, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কুমার বিশ্বাসরা এবার কেন পথে নামছেন না? শেষ পর্যন্ত এ দিনের মতো বিক্ষোভকারীরা রণে ভঙ্গ দিলেও ভবিষ্যতে যে বিক্ষোভের আঁচ আরও বাড়তে পারে তা বুঝে গিয়েছে দিল্লি এবং কেন্দ্রীয় সরকার।