পঞ্জাবের পাতিয়ালায় লকডাউন বিধি বজায় রাখতে গিয়ে নীহঙ্গদের সঙ্গে সংঘর্ষে হাত কাটা পড়েছিল সাব-ইন্সপেক্টর হরজিৎ সিং-এর। তাঁর কাটা পড়া সেই হাত জোড়া লাগার পর, এখ অনেকটাই সুস্থ তিনি। মঙ্গলবার তাঁর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এক অভিনব উদ্যোগ নিল অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ।

গত ১২ এপ্রিল পাতিয়ালাতে লকডাউন বিধি মেনে চলার কতা বলে জনরোষের শিকার হন তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর হরজিৎ সিং। ওই ঘটনার পর তাঁর 'অনুকরণীয় সাহস'এর স্বীকৃতি হিসাবে তাঁকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এখন কেমন আছেন তিনি? সেই কথা জানিয়েই রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর সকলকে তাঁকে স্যালুট জানিয়ে একটি টুইট করেছেন। টুইটের ভিডিও-তে সাব ইন্সপেক্টর হরজিৎ সিং-কে খোশ মেজাজেই দেখা গিয়েছে। অপারেশন করে তাঁর কাটা হাত জোড়া দেওয়া হয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়েছে। এখন তিনি জোড়া দেওয়া হাতের আঙুল নাড়াতে পারছেন।

রাজীব চন্দ্রশেখর লিখেছেন, পঞ্জাব পুলিশের এসআই হরজিৎ সিংয়ের সুস্থ হয়ে ওঠা আজকের উদ্বীপ্ত হওয়ার কাহিনি। গত ১২ এপ্রিল দুষ্কৃতীদের হামলায় তিনি তাঁর হাত প্রায় হারাতে বসেছিলেন। হামলার পর হরজিৎ সিং-কে দ্রুত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিজিআইএমআর)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিত্সকরা, সাত ঘন্টা ধরে জটিল অপারেশনের পর তাঁর বিচ্ছিন্ন হাত আবার জোড়া দিতে পেরেছিলেন।

এদিন, হরজিৎ সিং-এর সাহসিকতার প্রশংসা করে, 'আই অ্যাম হরজিৎ সিং' বা 'আমি হরজিৎ সিং' নামে একটি প্রচার চালু করল তারা। অন্ধ্রের পুলিশকর্মীরা বলছেন, পুলিশ এবং অন্যান্য ফ্রন্টলাইন কর্মীরা যাদের বিরুদ্ধে হামলা হয়েছে, তাদের সবার প্রতিনিধি হরজিৎ সিং। তাঁর বীরত্ব, ত্যাগ, সকলের অনুকরণীয় বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার অঞ্জনি কুমার, পঞ্জাব পুলিশের ডিজি-কে একটি চিঠি দিয়ে বলেছেন, হায়দরাবাদের ২ হাজারেরও বেশি পুলিশ আধিকারিক এদিন হরজিৎ সিংয়ের নেমপ্লেট নিজেদের উর্দিতে লাগিয়েছেন। তিনি পুরো দেশের পুলিশ বিভাগের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁর মতো পুলিশ আধিকারিক আছেন বলেই তাঁরা পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে গর্ববোধ করেন বলেও জানান অঞ্জনি কুমার। হরজিৎ সিংকে স্যালুট করে তিনি জানিয়েছেন তাঁর নেমপ্লেট উর্দিতে ধারণ করতে পেরে তাঁরা গর্বিত।