বহুচর্চিত ঘটনাটি অবশেষে ঘটলই খোলা চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করলেন রাহুল গান্ধী রইল তাঁর চিঠির বয়ান

বহুচর্চিত ঘটনাটি অবশেষে ঘটলই। খোলা চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করলেন রাহুল গান্ধী। বহুদিন ধরেই কংগ্রেসের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছিল রাহুলের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে রুখে দেওয়ার, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। নিজের মতেই অনড় থাকলেন রাহুল, অবশেষে গৃহীতও হল সেই সিদ্ধান্ত। এদিন রাহুল তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লেখেন। চিঠিটি নিজের ট্যুইটে শেয়ারও করেন রাহুল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাহুল গান্ধীর চিঠিটিতে কী লেখা, পড়ুনঃ

"কংগ্রেসের মতো দল যার মূল্যবোধ এবং আদর্শ এই মহান দেশের রক্তস্রোত, তার সেবা করতে পারাটা আমার কাছে গর্বের। আমি আমার দেশ ও দলের কাছে ভালবাসা ও সম্মানের কারণে ঋণী।

কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে আমি ২০১৯ লোকসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের যাবতীয় দায় নিতে চাই। নিজের দায় এড়িয়ে অন্যদের সমালোচনা করাটা অনৈতিক হবে।

আমার সহকর্মীরা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন নেতৃত্বদানের উত্তরসূরী খোঁজার। কিন্তু আমি মনে করি নতুন নেতা নির্বাচনের যোগ্য ব্যক্তিত্ব আমি নই। আমাদের দলের গভীর ইতিহাস, ঐতিহ্যকে আমি শ্রদ্ধা করি। দেশ গঠনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এই দল। আমি মনে করি দলই যোগ্যতর নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। 

আমি সিদ্ধান্তগ্রহণের পরেই দলের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে জানিয়েছি , নতুন সভাপতির খোঁজ শুরু করার জন্যে। আমি নিজেই তাঁদের সিদ্ধান্তপ্রণয়নের ক্ষমতা দিয়েছি। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমি আমি সর্বতোভাবে সাহায্যও করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ কথা রাখলেন অনড় রাহুল, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা

আমার লড়াই কখনও রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ছিল না। বিজেপির বিরুদ্ধে আমার কোনও ক্ষোভ ছিল না। কিন্তু বিজেপির বর্তমান ভারতের ধারণাকে আমার শরীরের প্রতিটি কোষ বিরোধিতা করে। এটা আজ নয়,আমার ভারতভাবনার সঙ্গে বিজেপির সংঘাত চিরকালীন। 
এই যুদ্ধ নতুন নয়, ভারতে এই বিরোধিতা কয়েক হাজার বছরের। তারা যেখানে বিভেদ দেখে আমি সেখানে দেখি ঐক্য, তারা যেখানে ঘৃণা দেখেন আমি সেখানে ভালবাসা দেখি, কারা যেখানে ভয় পান, সেখান থেকেই বরাভয় সংগ্রহ করি আমি।

আমাদের দেশের ওপর আঘাত আমাদের জাতিরাষ্ট্র সংক্রান্ত ধারণাটিকে বদলে দিতেই চায়। আমি তার বিরুদ্ধে লড়াই থামাব না। আমি কংগ্রেসের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলাম। আমি তাইই থাকব। শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত চেষ্টা করব দেশমাতৃকাকেই সেবা করতে।

বলা জরুরি আমরা এই লোকসভা ভোটে লড়াই করেছি। আমাদের লড়াই ছিল ভ্রাতৃত্ব, সহ্য ও মানুষের সম্মানের জন্যে। আমি সর্বশক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়তে চেয়েছি। লড়তে চেয়েছি কারণ আমি দেশকে ভালবাসি। আমি যেসব আদর্শে এই দেশ দাঁড়িয়ে রয়েছে তার বিরুদ্ধেই লড়তে চেয়েছি। এর জন্যে আমায় একাও হতে হয়েছে সময়ে সময়ে। তার জন্যে আমি গর্বিত। এটা আমার কাছে শিক্ষা, দলীয় কর্মীদের নিষ্ঠার থেকে আমি ভালবাসা ও সৌজন্যের শিক্ষা নিয়েছি।"