স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থান ছিল নেহরু-গান্ধী রাজনৈতিক পরিবারের। কিন্তু এই মুহূর্তে এই পরিবারের শেষ প্রদীপ আজ মহা সংকটে। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেস দলের বিপর্যয় এবং আমেঠি লোকসভা কেন্দ্রে হার -এর দায় মাথায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছেন রাহুল গান্ধী। এখন প্রশ্ন, তাহলে কি আর কংগ্রেসের সভাপতিত্ব কী আর থাকবে না এই পরিবারের হাতে? নাকি ভাইয়ের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করতে এগিয়ে আসবে বোন প্রিয়াঙ্কা? কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক দেবে তার বিধান। 

এই বিষয়ে জরুরি বৈঠক করতেই শনিবার সকালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির পক্ষ থেকে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে খবর। মনে করা হচ্ছে, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির আজকের বৈঠকেই রাহুল গান্ধী তাঁর পদত্যাগ পত্র জমা দেবেন। ইতিমধ্যেই, রাহুলের কোনও নির্বাচনী কৌশলই কাজে লাগেনি৷ 'চৌকিদার চোর হ্যায়', রাফাল-সহ অন্যান্য মোদী-কেন্দ্রিক স্ট্র্যাটাজি যে, ভোটদাতাদের মন গলাতে পারেনি, সেই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে নানা মহলে, এমনকী কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও। কংগ্রেস নেতা অনিল শাস্ত্রীও আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়া দিয়েছিলেন,  একতরফা মোদীকে আক্রমণের ফলেই পক্ষান্তরে বিপর্যয় ডেকে এনেছে কংগ্রেস। এই অবস্থায় রাহুল যদি পদত্যাগপত্র জমা দেন, ওয়ার্কিং কমিটি কি তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করবে?-সেই নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। 

রাহুল গান্ধীর ইস্তফা আটকাতে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের তরুণ তুর্কিরা একজোট হয়েছেন। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক কোন নাটকীয়তার মোড় নেবে এখন সেটাই দেখার।