Rahul Gandhi Supreme Court: ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন রাহুল গান্ধী। এর মাঝেই সুপ্রিম কোর্টের দিকে 'দিল্লি চলো' মিছিল নিয়ে এগোচ্ছেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। তবে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করার আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
Rahul Gandhi Supreme Court: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে এবং ভোট চুরির প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোচ্ছে ইন্ডিয়া জোটের মিছিল। আর এই মিছিলের মাঝেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর হয়ে আইনজীবীরা এই পিটিশন জমা দিয়েছেন। বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ এই মামলা দায়ের করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) সহ একাধিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে এই পিটিশনে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের 'দিল্লি চলো' মিছিল ঘিরে রীতিমতো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী। দুপুর ২টো নাগাদ কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বাসে ওঠেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। এরপর বারখাম্বা জংশনের কাছে বাস থেকে নেমে সুপ্রিম কোর্টের দিকে হাঁটতে শুরু করেন তাঁরা। কিছুটা হাঁটার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে মান্ডি হাউসের কাছে একটি খোলা গাড়িতে ওঠেন নেতারা। সুপ্রিম কোর্ট থেকে ২০০ মিটার দূরে ব্যারিকেড দিয়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।
উত্তপ্ত হতে পারে রাজধানী
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, যোগেন্দ্র যাদব এবং নেহা বোরার মতো ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা এই মিছিলে পা মিলিয়েছেন। পুলিশ যেখানেই বাধা দেবে, সেখানেই ধর্নায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়া জোটের। নেতাদের সঙ্গে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের দিকে এগিয়ে আসছেন। তাই আজ রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেও, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরাসরি দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইন্ডিয়া জোটের। রাহুল গান্ধী দেশের যুবসমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলোকে রাজনৈতিক, জাতি বা ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান বাঁচাতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদরত দেশের যুবসমাজের ওপর পুলিশ এবং বিজেপি গুন্ডাদের এই নির্মম অত্যাচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করার আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে এলে যেকোনো অভিযোগ শুনতে তিনি প্রস্তুত। বিচারাধীন কোনো বিষয়ে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করে স্মারকলিপি নেওয়াটা ঠিক হবে না বলেই মনে করছেন তিনি। মূলত চারটি কারণ দেখিয়ে এই আর্জি খারিজ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, বিরোধীরা যে বিষয়গুলো তুলতে চাইছেন, তা ইতিমধ্যেই তাঁর বেঞ্চে বিচারাধীন। তাই নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করাটা উচিত হবে না। প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বিষয়গুলো তাঁকে বলে কোনো লাভ নেই। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে আসার অধিকার সবার রয়েছে। বিরোধীরা মামলা দায়ের করলে তা যত দ্রুত সম্ভব তালিকাভুক্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।


