জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মনের কথা তিনি জানেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগীর দল বদলের ২৪ ঘণ্টা পরে মন্তব্য রাহুল গান্ধির। মুখে যে কথা বলছেন তা হয়তো তাঁর মনে নেই।  নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাই হয়তো ১৮ বছের যোগাযোগ ছিন্ন করেছেন কংগ্রেসের সঙ্গে। জ্যোতিরাদিত্যর বিজেপিতে যোগ দানের ২৪ ঘণ্টা পরেও তাঁর বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ না করে কার্যত পাশেই দাঁড়ালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি। গতকাল সিন্ধিয়া ইস্যুতেই রাহুল গান্ধি নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এদিনও দূরে থেকেই কার্যত পাশেই দাঁড়ালেন সিন্ধিয়ার। কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন সিন্ধিয়া আর শচিন পাইলট ছিলেন রাহুলের তরুণ ব্রিগেডের সেনাপতি। লোকসভা ভোটে হারের পর রাহুল সভাপতির পদ ত্যাগ করায় কিছুটা হলেও কোনঠাসা হয়ে পড়েন সিন্ধিয়া। 

মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার অন্যতম দাবিদার ছিলেন সিন্ধিয়া। কিন্তু কমল নাথ ও দিগ্বিজয় সিং-এর চাপে কোনঠাসা সিন্ধিয়ার কংগ্রেসের টিকিট জুটত না। সূত্রের খবর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতেই দল পরিবর্তন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন সিন্ধিয়া। রাজ্যসভার টিকিট প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধিকে  জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনি কংগ্রেসের সভাপতি নন। তাই এই বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেনে না। তিনি কংগ্রেস সাংসদ হিসেবে যুব সামাজকে দেশের অর্থনীতি নিয়ে সচেতন করতে পারেন। কিন্তু কে তাঁর দলে আছে কে তাঁর দলে নেই তা দেখার সময় এখন নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তিনি সবসময় ভারতবাসীকে দেশের সমস্যাগুলি সম্পর্কে অবগত করতে পারেন। কিন্তু দলের বিষয়ে কোনও সিন্ধান্ত তিনি নিতে পারেন না। 

গতকাল রাতেই রাহুল গান্ধি ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া হচ্ছেন কংগ্রেসের এমন একজন কর্মী যে ডাকা মাত্রই তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হতেন। এদিন তিনি আরও বলেন কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি ও আরএসএস-এর আদর্শের লড়াই চলছে। কলেজ জীবন থেকেই সিন্ধিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা থাকায় তিনি জানেন সিন্ধিয়ার আদর্শ কী। নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে চিন্তিত হওয়ায় সিন্ধিয়া আদর্শ পরিত্যাগ করে আরএসএস-এর হাত ধরেছে। কিন্তু সিন্ধিয়ার মনে কী আছে আর তিনি কী কথা বলছেন তা রাহুল ভালোমতই নাকি জানেন। 

১৮ বছের পর দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপির হাত ধরেছেন সিন্ধিয়া। কিন্তু প্রশ্ন তিনিও কী ভালো আছেন। তাঁর বিজেপিতে যোগ দিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বসে একবারও তাঁর হাসি মুখ দেখা যায়নি। কঠিন মুখেই সেরেছেন সাংবাদিক বৈঠক। উল্টে মন্দসৌর প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে বসেই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর নতুন দলের অস্বস্তি।