Rahul Gandhi: রামমন্দির অনুদান চুরি বিতর্কে এবার বিস্ফোরক টুইট লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র। রাম মন্দির ট্রাস্টে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
রামমন্দির অনুদান চুরি বিতর্কে এবার বিস্ফোরক টুইট লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র। রাম মন্দির ট্রাস্টে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।এই চিঠিতে একাধিক গুরুতর দাবি করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত বিশ্বাস ও ভক্তিভরে তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দান করেছিলেন। এই অভিযোগ সামনে আসায় তাঁরা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।
রাহুলের অভিযোগ
রাহুল ও খাড়গের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এই অভিযোগ সম্পর্কে সবই জানেন। তবু তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাস্ট গঠন হলেও, সংসদে তার ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই এবং ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়োগ করেছে কেন্দ্র সরকার। চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদকও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
কী বক্তব্য কংগ্রেসের
এই পরিস্থিতিতে ট্রাস্টের সমস্ত আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা। তাঁদের বক্তব্য, নগদ টাকা, সোনা, রুপো-সহ সব ধরনের দানের হিসাব খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁদের আরও দাবি, তদন্তের রিপোর্ট এবং ট্রাস্টের সম্পূর্ণ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে, যাতে ভক্তরা জানতে পারেন তাঁদের দান কীভাবে ব্যবহার হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যে-ই দোষী প্রমাণিত হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পদ বা প্রভাব কোনও ক্ষেত্রেই বাধা হওয়া উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতারও সমালোচনা করেছেন রাহুল ও খাড়গে। তাঁদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। শেষে তাঁরা লিখেছেন, সরকার ও ট্রাস্ট, উভয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন নির্ভর করছে কত দ্রুত এবং কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার উপর। দেশের মানুষ গোটা বিষয়টির দিকে নজর রাখছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলি বিরোধী দলনেতাদের দাবি।
চিঠিতে কী লিখলেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি নিশ্চয়ই অবগত যে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত, যারা বিশ্বাস, ভক্তি ও আস্থার সঙ্গে তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দান করেছেন, এই অভিযোগে গভীরভাবে প্রতারিত বোধ করছেন।
আপনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে সংসদে এই ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ট্রাস্টের সদস্যদের সম্পূর্ণভাবে আপনার সরকারই নিয়োগ করেছে। সর্বজনবিদিত যে, ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে আরএসএস, ভিএইচপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাস্টের অপদস্থ প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদকও আপনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
এমন গুরুতর অভিযোগের মুখে আপনার নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয়। জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া আপনার দায়িত্ব।
আমরা অবিলম্বে ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনের উপর একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এই তদন্তে নগদ অর্থ, সোনা, রূপোসহ সমস্ত ধরনের দানের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তদন্তের ফলাফল এবং ট্রাস্টের আর্থিক হিসাব সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত, যাতে প্রত্যেক ভক্ত জানতে পারেন তাঁদের দান কীভাবে ব্যবহার হয়েছে। পদ বা প্রভাব যাই থাকুক না কেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আপনার সরকার এবং এই ট্রাস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে আপনি কতটা স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেন, তার উপর। দেশের মানুষ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
জয় হিন্দ!

