অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার জন্য রেল ভাড়া দিয়ে দেবে কংগ্রেস। সনিয়া গান্ধী এই ঘোষণার পরই রীতিমত নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। একের পর এক আসরে নামে বিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্ব। সম্বিত পাত্র থেকে অমিত মালব্য রাহুল গান্ধির পাশাপাশি নিশানা করেন সনিয়া গান্ধিকেও। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য তো সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি ইতালির প্রসঙ্গ তুলে এনে রীতিমত কটাক্ষ করেন সনিয়াকে। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করছে তা দেখে হতাশ কংগ্রেস। আদর্শগতভাবে তারা অনেক লোককে দুর্ভোগে ফেলতে চাইছে। বিনা বাধায় মানুষ চলাফেরা করলে সংক্রমণ দ্রুত ঘটবে। ইতালির মত পরিস্থিতি হবে এই দেশেরও। 

বিজেপি সনিয়া গান্ধীকে নিশানা করলেও পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি ঘোষণা করে অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে ট্রেনের ভাড়া তাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয় ৮৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে রেল।  যদিও ২৪ ঘণ্টা আগে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ছিল সম্পূর্ণ অন্য কথা । সেখানে অভিবাসী শ্রমিকদের থেকে রাজ্যগুলি অর্থ সংগ্রহ রেলের হাতে তুলে দেবে-এমনটাই বলা ছিল। 

যাইহোক এর আগেও একাধিকবার কংগ্রসকে ভড়াডুবির হাত থেকে বাঁচিয়েছেন সনিয়া গান্ধী। বিতর্ক দূরে সরিয়ে রেখে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনের সারি থেকে। গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পরে রাহুল গান্ধি দায়িত্ব ছাড়ার পর যখন কেউ এগিয়ে আসেনি তখনও শতাব্দী প্রাচীন দলের দায় তুলে নিয়েছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুটা হলেও ঘরবন্দি তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম থেকেই সনিয়া গান্ধী সক্রিয় ছিলেন। 

প্রথম দফায় রাজনৈতিক ভেদাভেদের উর্দ্ধে উঠে কংগ্রেসের বিজেপি সরকারকে সবরকমভাবে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কথায় যা প্রমান করেছিল দেশের সংকট তাঁর কাছে রাজনীতির ওপরে। খোলা চিঠি লিখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদী সরকারকে একগুচ্ছ পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের কথায় এই চিঠির মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক দক্ষতার প্রমান দিয়েছিলেন তিনি। কারণ পরবর্তীকালে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেই সনিয়া আক্ষেপ করেছিলেন দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের পরিস্থিতি নিয়ে। 

রাহুল গান্ধী প্রথম দিকে লকডাউন সমর্থন করলেও পরবর্তীকালে নমুনা পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। পাশাপাশি দেশের দরিদ্র মানুষের চরম দুরবস্থার কথা বলে আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সনিয়া কখনই সেই পথে হাঁটেননি। বিজেপির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও কেন্দ্রের মোদী সরকারকে টক্কর দিয়ে গেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগে পরে ভাষণ দিয়ে দেশের করোনা সংকটে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন। করোনা সংকটের মধ্যেই দেশে জ্বলন্ত হয়ে উঠেছিল তাবলিগি জামাত ও পালঘর সমস্যা। সারাসরি দুটি প্রসঙ্গেই মুখ খোলেননি তিনি। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষের কাছে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আবেদন করে গেছেন। 

সেই তুলনা কিছুটা হলেও ফিকে রাহুল গান্ধির ভূমিকা। দেশে করোনা সংকট উপস্থিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই আর্থিক মন্দার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন রাহুল গান্ধি। ফেব্রুয়ারি মাসে গোটা বিশ্বে যখন ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে করোনা সংকট তখনই রাহুল সতর্ক হওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাঁকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমানেও রাহুল গান্ধী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রঘুরাম রাজনের কাছে পরামর্শ কথা বলেছেন। আর্থিক মন্দা কাটাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাও করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তিনি এখনও সুফল কুড়াতে পারেননি। বা মোদী সরকারকে ধাক্কা দিতেও পারেননি। তাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান রাহুলের থেকে সনিয়ার ভূমিকা অনেক বেশি কার্যকর।